নিজস্ব প্রতিবেদক :
আগামী ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন। রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে ওই দিন অধিবেশন আহ্বান করেছেন।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৭ আগস্ট বিকাল ৩টায় সংসদের বৈঠক শুরু হবে। অধিবেশনের মেয়াদ, কার্যদিবস ও আলোচ্যসূচি কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে নির্ধারণ করা হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ১২ মার্চ। ওই অধিবেশনে নতুন সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু, সংসদীয় কমিটি গঠন, বিভিন্ন বিল ও প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা এবং সরকারের জবাবদিহিমূলক কার্যক্রমের সূচনা হয়।
এরপর ৭ জুন শুরু হয় দ্বিতীয় অধিবেশন। এটি ছিল বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন। এতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন, বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ নিয়ে সংসদ সদস্যদের মতামত ও অর্থবছরের আর্থিক কার্যক্রম অনুমোদন করা হয়।
বাজেট অধিবেশনে অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। দীর্ঘ কার্যক্রমের পর ১৫ জুলাই দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হয়। রাষ্ট্রপতির অধিবেশন-সমাপ্তির ঘোষণা পাঠের মাধ্যমে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশন সমাপ্তির ঘোষণা দেন।
দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হওয়ার প্রায় দেড় মাস পর বসছে তৃতীয় অধিবেশন। এতে বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি, সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি, প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান ও জনজীবনের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদন, নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইনের সংশোধনী প্রস্তাবও গুরুত্ব পেতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিল উত্থাপনের পাশাপাশি বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা জনস্বার্থের বিষয় সংসদের নজরে আনতে পারেন।
প্রশ্নোত্তর পর্বেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, সরকারি সেবা ও জনদুর্ভোগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যাও সংসদে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।
সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন। প্রথম অধিবেশনও একই সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে আহ্বান করা হয়েছিল।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা জানান, তৃতীয় অধিবেশন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম অধিবেশনে সংসদীয় কাঠামো ও কার্যক্রমের সূচনা এবং দ্বিতীয় অধিবেশনে বাজেট প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এবার সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হতে পারে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও সংসদ সদস্যরা প্রশ্ন তুলতে পারেন।
বাজেট বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, জনসেবা ও প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য, বিদ্যুৎ-গ্যাস, পরিবহন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি গুরুত্ব পেতে পারে।
তবে তৃতীয় অধিবেশনে কতটি কার্যদিবস থাকবে এবং কোন কোন বিল ও প্রস্তাব উত্থাপিত হবে, তা কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্তের পর জানা যাবে। সংসদ সচিবালয় পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গ কার্যসূচি প্রকাশ করবে।


















