শফিকুর রহমান শাহীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের শশই গ্রামে চোর সন্দেহে আলী হোসেন নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে নাজমুল ইসলাম জনি (৩৪) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে।
গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে গ্রামবাসীর উদ্যোগে আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।
স্থানীয় গ্রামবাসী জানান, ঘটনার দিন রাতে ওই ব্যক্তিকে এলাকায় দেখা যায়। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্যের ছোট ভাই মিজানুর রহমান তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে খাবার খেতে দেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতেই শশই গ্রামের আলমগীর মিয়ার ছেলে নাজমুল ইসলাম জনি তাকে ধারালো ছুরি দিয়ে পিঠে ও হাতে আঘাত করে রক্তাক্ত করেন।
আহত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার নাম আলী হোসেন। তার বাড়ি সিলেট জেলার বাজিতপুর এলাকায় বলে তিনি জানান। তার বাবার নাম আব্দুর রশিদ এবং মায়ের নাম রাবিয়া। নিজের মানসিক সমস্যার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত জনি মাদকাসক্ত এবং ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করেন। তাদের দাবি, তিনি প্রায়ই রাতে ধারালো ছুরি ও চাকু নিয়ে এলাকায় ঘোরাফেরা করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে সালিশে অভিযুক্তের বাবা আলমগীর মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, তার ছেলে তার কথা শোনে না এবং নেশার টাকার জন্য তাকে নির্যাতন করে। ছেলের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে তিনি এলাকাবাসীর কাছে তার বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জনির বাবা আলমগীর মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তার ছেলে মাদকাসক্ত এবং চাকু দিয়ে ওই ব্যক্তির পিঠে ও হাতে আঘাত করেছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর নিজেই হেঁটে হেঁটে অনেক মানুষকে বিষয়টি জানিয়েছেন। বর্তমানে আহত ব্যক্তির চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করবেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।
খবর পেয়ে ইসলামপুর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই রাশেদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন, ওই ব্যক্তিকে চোর সন্দেহ করে তার ওপর হামলা করা হয়েছে। এতে তার পিঠ, হাত ও মুখমণ্ডলে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন অসহায় ও মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির ওপর এমন হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


















