অপরাধচিত্র প্রতিনিধি (চট্টগ্রাম): প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘গত নির্বাচনে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছি। হুজুরের (আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী) নির্দেশনা ও দোয়ায় আমরা দেশকে বিপদ থেকে রক্ষা করেছি। এজন্য আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। আমাদের সমস্যা এখনো পুরোপুরি কেটে যায়নি। তাই, ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের সব সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে।’
৯ আগস্ট রোববার বিকেলে ফটিকছড়ির নাজিরহাট পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া বাবুনগর মাদ্রাসায় আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে দেশের ৬৪ জন শীর্ষ আলেমের সঙ্গে বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে। দেশের বিভিন্ন সম্পদের খনি নিজেদের স্বার্থে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে দেশের মানুষকে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে এবং এর খেসারত দিতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিগত নির্বাচনে প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকা একটি পক্ষ সাম্প্রতিক সময়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। হুজুরের দোয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকতে হবে।
আলেমদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির কথা তুলে ধরার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন, বিভিন্ন দাবি জানিয়েছেন। আমরা সব বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করছি। ইনশাআল্লাহ, সব সংকট কেটে যাবে।’

এর আগে, বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং সিএন্ডবি মাঠে তৈরি করা হেলিপ্যাডে হেলিকপ্টারে করে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম, সাবেক বিচারপতি অ্যাডভোকেট ফয়সাল মাহমুদ ফয়জীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।
পরে বুলেটপ্রুফ বাসে করে নাজিরহাট পৌরসভার বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। পথে পাইন্দং থেকে নাজিরহাট পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখার জন্য জড়ো হন। এতে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় উপস্থিত জনতা হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
ফটিকছড়ির কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে অবস্থান ও মোনাজাতে অংশ নেওয়ার পর হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যা পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
















