Monday , 3 August 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুড়িগ্রাম
  9. কুমিল্লা
  10. কুষ্টিয়া
  11. কৃষি ও প্রকৃতি
  12. ক্রীড়াঙ্গন
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. গাইবান্ধা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সীমান্ত: মাদক দমনে সরকারের পঞ্চমুখী নতুন কৌশল

প্রতিবেদক
Newsdesk
August 3, 2026 2:09 pm

অপরাধচিত্র ডেস্ক: দেশে মাদকের বিস্তার রুখতে এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের সর্বগ্রাসী থাবা থেকে বাঁচাতে সরকারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। কেবল অভিযান-নির্ভর নীতি থেকে সরে এসে সচেতনতা, প্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সামাজিক অংশগ্রহণ—এই পাঁচটি মূল স্তম্ভকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন কৌশল সাজানো হয়েছে।

​ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরোধ ও সচেতনতা

​মাদকবিরোধী কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বাড়াতে একটি জাতীয় গলাইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।

  • মেন্টর তৈরি: এর অধীনে ২ হাজার প্রশিক্ষক বা মেন্টর তৈরি করা হবে।
  • মাদকবিরোধী কমিটি: ২০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন করা হবে, যা নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
  • মাদকবিরোধী ব্রিগেড: সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ‘মাদকবিরোধী ব্রিগেড’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক ক্লাব যুক্ত থাকবে।

​সীমান্ত নজরদারি ও অভিযান জোরদার

  • অস্থায়ী চেকপোস্ট: অবৈধ মাদক প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ১০০টি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • বিশেষ ও সাধারণ অভিযান: সারা দেশে ৩৫ হাজার সাধারণ অভিযান এবং ৬০ দিনের বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে ২০০টি নির্ধারিত টার্গেটে হানা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
  • তালিকা হালনাগাদ: থানাভিত্তিক অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি ও হালনাগাদ করা হবে, যাতে তদন্ত ও অপরাধী শনাক্তকরণ সহজ হয়।

​ প্রযুক্তির ব্যবহার, সরঞ্জাম ও আন্তর্জাতিক কেন্দ্র

  • বডি-ওর্ন ক্যামেরা: অভিযানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০০টি ‘বডি-ওর্ন ক্যামেরা’ কেনা হচ্ছে।
  • অস্ত্র ও যানবাহন: ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩টি নতুন যানবাহন এবং কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার জন্য প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০টি শর্ট-রেঞ্জ অস্ত্র কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • ন্যাশনাল টার্গেটিং সেন্টার (NTC): আন্তর্জাতিক মাদক নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (INCB) GRIDS কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের জন্য এনটিসি স্থাপন করা হবে।

​ডোপ টেস্ট ও মানি লন্ডারিং রোধ

  • বিভাগীয় পর্যায়ে ডোপ টেস্ট: সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রথম ধাপে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশালে স্ক্রিনিং ডোপ টেস্ট চালু করা হবে। পরবর্তী ধাপে ময়মনসিংহ, রংপুর ও খুলনায় তা সম্প্রসারিত হবে।
  • অর্থপাচার রোধ: মাদকের আর্থিক উৎস ও অর্থপাচার শনাক্তে ৫০ জন কর্মকর্তাকে মানি লন্ডারিং বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

​জনসচেতনতা ও ১২০ দিনের কর্মপরিকল্পনা

​জনসচেতনতা বাড়াতে সব বিভাগ ও জেলায় কর্মশালা এবং সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়ার জন্য গণশুনানি আয়োজন করা হবে। ১২০ কার্যদিবসের এই কর্মপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য শুধু মাদক উদ্ধার নয়, বরং জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে মাদক সিন্ডিকেটের অর্থায়ন ও নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া।

​বিশেষজ্ঞ মতামত

কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দিন (নিরাপত্তা বিশ্লেষক):

“মাদকবিরোধী লড়াই শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান দিয়ে সফল হবে না। প্রতিরোধ, সচেতনতা, গোয়েন্দা তথ্য, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক ধ্বংস করাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সংস্থাগুলোর সমন্বয়, তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

ড. মো. সহিদুজ্জামান (অধ্যাপক ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ):

“মাদক একটি বহুমাত্রিক সামাজিক সংকট, যা জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেন্টর তৈরি ও কমিটি গঠনের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল দেবে, তবে এগুলো যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে।”

লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খায়রুল ইসলাম (সাবেক গোয়েন্দা প্রধান, র‍্যাব):

“মাদক সিন্ডিকেট এখন প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তঃসীমান্ত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তথ্য বিনিময়, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন।”

সর্বশেষ - অপরাধচিত্র বিশেষ

আপনার জন্য নির্বাচিত
Share via
Copy link