নিজস্ব প্রতিবেদক :
পূবালী ব্যাংকের দুর্নীতিবাজ ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পুন:রায় নিয়োগ দিতে ভয়ানক অপতৎপরতা শুরু করেছন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. কবীর আহাম্মদসহ একটি বিশাল চক্র। এজন্য মোটা অংকের ঘুষ লেনদেনেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ৯০৩ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় কবীর আহাম্মেদসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে সোমবার মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ফ্যাসিস্ট আমলে নিয়োগ পাওয়া কবীর আহাম্মেদের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে শওকত আলী চৌধুরীতে ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ করতে কবীর আহম্মেদ খানের মাধ্যমে একটি চক্র বড় ধরনের অর্থ লেনদেন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টির অনুসন্ধান করছে দুদক।
পূবালী ব্যাংকের বর্তমান এমডি মোহাম্মদ আলীকে পূৃনরায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে নিয়োগ দেয়ার চেষ্টা করছেন ব্যাংকটির দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান মঞ্জুরুর রহমান। ব্যাংটির বর্তমান ৭ জন পরিচালকের বোর্ডে আপত্তি উপেক্ষা করে একক সিদ্ধান্তে এই নিয়োগ চুড়ান্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংকে সুপারিশ পাঠান পূবালী ব্যংকের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুর রহমান। সুপারিশে এমডির বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে মাসিক ২৭ লাখ টাকা। অন্য সব তফসিলভুক্ত ব্যংকের চেয়ে প্রায় দিগুন বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে ব্যাংকের অভ্যন্তরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এতে খোদ পরিচালক ও ব্যাংকটির অংশীদারগন চরম আপত্তি তুলেছেন।
তারা বলেন, পূবালী ব্যাংকে ১৪৮৯ তম বোর্ড সভায় ১২ জন পরিচালকের মধ্যে ৭ জন পরিচালকের অনুপস্থিতি ও অসম্মতির পরও দুর্নীতিবাজ এমডি মোহাম্মদ আলীকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ওই সভায় মাত্র ৩জন পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। এনিয়ে ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। মোহাম্মদ আলী ও মঞ্জুরুর রহমানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএফআইইউ ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দুদকে দুর্নীতি সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। এছাড়া ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মঞ্জুর রহমানের বিরুদ্ধে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দেড় হাজার কোটি দুর্নীতির অভিযোগ সুনির্দিষ্ট ভাবে প্রমানিত। যা বিচারাধীন আছে এবং সে কারণেই দুর্নীতিবাজ এমডিকে দিয়ে পূর্নরায় অর্থ আত্মসাতের সুবিধার্থে কথিত এমডিকে পুনর্নিয়োগে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মঞ্জুরুর রহমান।
পূবালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, পূবালী ব্যাংকে চেয়ারম্যান মঞ্জুরুর রহমানের যাবতীয় দুর্নীতি ও অপকর্মের সহযোগী মোহাম্মদ আলী। তাকে হাত করে বোর্ড সভাকে পাশ কাটিয়ে মঞ্জুরুর রহমান ও তার ছেলে জেহাদ রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা নানা দুর্নীতি করে যাচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির পৃথক চারটি অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। এরপরও ২৭ লাখ টাকা বেতনে পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও মোহাম্মদ আলীকে পুন:রায় নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সেই সুপারিশ আমলে নিয়ে তাদের পক্ষে কাজ করছেন আর এক দুর্নীতিবাজ বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবীর আহাম্মেদের নেতৃত্বে একটি দুর্নীতিবাজ চক্র। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি শাখার প্রধান ও ডেপুটি গভর্নর কবির হোসেন তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করছেন। পূবালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ লেনদেনেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে সোমবার (৫ জানুয়ারী) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবীর আহাম্মদসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে ন্যাশনাল ব্যাংকের ৯০৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছে দুদক। কবীর আহাম্মেদ ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক পর্যবেক্ষক। তিনি এই ঋণ জালিয়াতির বিরুদ্ধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেননি।
পূবালী ব্যাংকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরিচালক জানান, আমরা মোহাম্মদ আলী ও মঞ্জুরুর রহমানের দুর্নতি অনিয়ম তুলে ধরে গভর্ণরকে চিঠি দেই। গভর্নর আমাদের সঙ্গে দেখা করে আমাদের সামনেই ডেপুটি গভর্নর ড. কবীর আহম্মেদকে ডেকে বর্তমান পরিচালনা পর্যদ ভেঙ্গে নতুন পর্যদ গঠনের নির্দেশ দেন। কবীর আহম্মেদ শুরুতে কিছুটা তৎপরতা দেখালেও পরে রহস্যজনকারনে চুপ হয়ে যান। পরবর্তীতে দফায় দফায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে ড. কবীর আহম্মেদের বক্তব্য জানার জন্য তার মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি। তার বক্তব্য চেয়ে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়। তিনি বক্তব্য দেখার পরও কোন জবাব দেননি।
ব্যাংটির বর্তমান এমডি’র সকল অপকর্ম ধামা চাপা দেওয়ার জন্য জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) মিজানকে এমডি দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন। এমডির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ উঠলেই পিআরও মিজান মোটা অংকের টাকা নিয়ে দৌরঝাপ শুরু করেন। এই পিআরও মিজান এমডির নাম ব্যবহার করে নিজেও জড়িয়েছেন নানা অপরাধে তার বিরুদ্ধে আছে নারী ঘটিত নানা অভিযোগ।


















