নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১-এর: মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের তৎকালীন রাজনৈতিক অবস্থান ও তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আল-বদর-রাজাকার বাহিনীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের যে গুরুতর ইতিহাস আদালতের নথিতে উঠে এসেছে, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও সেই দলকে ঘিরে নারী ও নৈতিকতার প্রশ্ন যেন বারবারই ফিরে আসছে। এবার সেই প্রশ্নের কেন্দ্রে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্কের পর জামায়াতে ইসলামী নিজস্ব সাংগঠনিক তদন্তে ‘নৈতিক স্খলনের’ অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে।
এরপর ঘটনাপ্রবাহ থামেনি। রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে তাঁর ১৯ বছর বয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও শ্যালক ওবায়দুল্লাহকে আসামি করা হয়েছে। সর্বশেষ পুলিশ গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।
একদিকে নিজের দলেই ‘নৈতিক স্খলনের’ অভিযোগে বহিষ্কার, অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছর বয়সী দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যু এবং সেই মৃত্যুকে ঘিরে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা—ঘটনাগুলো এখন একই সুতোয় গাঁথা কি না, সেটিই তদন্তের বড় প্রশ্ন।
তবে অভিযোগ আর প্রমাণ এক বিষয় নয়। মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল এবং মামলায় আনা অভিযোগের সত্যতা—এসব নির্ধারণ করবে তদন্ত, ফরেনসিক ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং শেষ পর্যন্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া।
১৯৭১ থেকে আজ—প্রশ্নটি তাই আরও বড়:
জামায়াতের ১৯৭১-এর ভূমিকা নিয়ে আদালতের বিভিন্ন রায়ে আল-বদর ও রাজাকার বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে দায় প্রমাণের কথা এসেছে। ফলে বর্তমানের কোনো ব্যক্তিগত ঘটনা সরাসরি ১৯৭১-এর অপরাধের সঙ্গে এক করে দেখা যায় না; কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলের অতীত ভূমিকা এবং সেই দলের বর্তমান নেতাদের ব্যক্তিগত-রাজনৈতিক আচরণ নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন তৈরি হয়, তার উত্তর দিতে হলে ইতিহাসের পাশাপাশি বর্তমান ঘটনাগুলোরও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—১৯ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য কী? আর সেই রহস্য উদঘাটনে সামনে আসা প্রতিটি তথ্য কতটা সত্য—সেটিই এখন দেখার বিষয়।
















