নিজস্ব প্রতিবেদক :
অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ ও কানাডায় পাঠানোর নামে জাল ভিসা ও টিকিট তৈরি করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।
সোমবার রাজধানীর উত্তরা কাওলাবাজার ও যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মানবপাচার মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. তারেকুল ইসলাম (৪৫), মো. মাইনুদ্দিন ভূইয়া (৪৮), মো. নেওয়াজ (৪৫) ও আবু হাসান (৪৮)।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার তারেকুল ইসলামই চক্রটির মূল হোতা।
মঙ্গলবার মিরপুর-১ পাইকপাড়ায় র্যাব-৪ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব আলম।
তিনি জানান, ‘টিভিআই ট্রাভেলস’ নামে একটি ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠানের আড়ালে তারা দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় লোক পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছিল। ভুক্তভোগী শরীফ মোল্লা (২৮) ও তার স্বজনদের বিদেশ পাঠানোর কথা বলে ২০২৫ সালের ১২ মে এবং পরবর্তী সময়ে পল্লবী থানাধীন তারেকুল ইসলামের বাসা ও অফিসে ডেকে নিয়ে একটি হিসাবে মোট ৯৪ লাখ টাকা নেয় চক্রটি।
আসামিরা কয়েক দিনের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর আশ্বাস দিলেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে যায়। পরে তারা ভিসা ও টিকিট দিলেও অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনে যাচাই করে ভুক্তভোগীরা জানতে পারেন, সেগুলো জাল। টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পল্লবী থানায় মামলা করেন।
মামলার পর র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালায়।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা স্বীকার করেছেন যে তারা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে পাঠানোর নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় এনআই অ্যাক্টে একাধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


















