স্টাফ রিপোর্টার,কক্সবাজার :কক্সবাজারের টেকনাফে জমি সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯ টার দিকে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র ও রড নিয়ে হামলা চালিয়ে উপজেলার হ্নীলা শাহ মজিদিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মো. এনায়েত উল্লাহসহ একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।উক্ত ঘটনায় টেকনাফ মডেল থানায় গত ২৬ আগস্ট একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে যার নাম্বার ৯৯/৭১০। দায়েরকৃত মামলাটিতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের গোদার বিল (৬ নং ওয়ার্ড) এলাকার হাজী বশির আহমদের ছেলে মো. ফারুক আলম প্রকাশ বাবুল (৩৫) এবং একই এলাকার নজির আহমদের ছেলে ফরিদ আলম (৩২) এর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় , বাদী টেকনাফ পৌরসভার অলিয়াবাদ (৫ নং ওয়ার্ড) এলাকার মো. আব্দুল্লাহ (৪৮) এর প্রয়াত পিতা এজাহারুল হকের নামীয় জমি ও মার্কেট নিয়ে আসামীদের সাথে কোর্টে দেওয়ানি মামলা (মিচ মামলা নং-২৮/২০২৩) চলমান রয়েছে। আদালত থেকে বাদীদের পক্ষে রায় ঘোষণার পর থেকেই বিবাদীরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
এরই জেরে গত ২০ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ৯ দিকে টেকনাফ পৌরসভার অলিয়াবাদস্থ আবহাওয়া অফিস রোড গাউছিয়া জামে মসজিদের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। বাদী বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে আসামিরা রামদা, ধারালো কিরিচ, দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও হাতুড়ি নিয়ে অতর্কিভাবে তার ওপর হামলা চালায়। তাকে টেনেহেঁচড়ে বাসার ভেতর নিয়ে হাতুড়ি, রড ও কিরিচ দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। বাদীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তার ভাই, হ্নীলা শাহ মজিদিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মো. এনায়েত উল্লাহ (৪২) এবং অপর ভাই আব্দুর রহমান (৫৫) এর ওপরও সন্ত্রাসীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলায় মো. এনায়েত উল্লাহর ডান হাতের কবজি, বুক ও বাহুতে এবং আব্দুর রহমানের বাম হাত ও কোমরে গভীর কাটা জখম হয়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বাদী মো. আব্দুল্লাহর দুই হাতও গুরুতর জখম হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত ফারুক আলম বাবুল ও ফরিদ আলমরা তাদের দলবল নিয়ে এলাকায় নিয়মিত সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে এবং জোরপূর্বক মানুষের জমি দখল করে নিচ্ছে। স্থানীয় কেউ তাদের বিরুদ্ধে বাধা দিলে বা প্রতিবাদ করলে এভাবেই সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী তাদের অন্যায়-অত্যাচারের বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এই বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টেকনাফ মডেল থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. আলী মর্তুজা জানান, তিনি ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছেন এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।


















