Tuesday , 30 June 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খুলনা
  7. খেলাধুলা
  8. চট্রগ্রাম
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. ঢাকা
  12. তথ্য-প্রযুক্তি
  13. প্রবাসের কথা
  14. বরিশাল
  15. বিনোদন

তিস্তা মহাপরিকল্পনা যে কোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা হবে : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রতিবেদক
Newsdesk
June 30, 2026 2:00 pm

অপরাধচিত্র প্রতিবেদক : যে কোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একে জাতীয় অগ্রাধিকার আখ্যা দিয়ে সরকারপ্রধান বলেছেন, দেশের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষিকে সহায়তা দেওয়া এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে যে কোনো মূল্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নদী, খাল ও সেচ অবকাঠামোয় বড় ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘদিনের পানি ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তারেক রহমান বলেন, রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের মানুষের অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয় পানি। সংসদ সদস্যরা নিয়মিত পদ্মা ও তিস্তা নদী নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। আমরা এসব সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছি।
সারা বছর কৃষির জন্য পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা হবে। যেন পুরো শুষ্ক মৌসুম এবং বছরের অন্যান্য সময় কৃষি ও প্রয়োজনীয় খাতে সেই পানি সরবরাহ করা যায়।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও এর আগে বক্তৃতায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারকে সমর্থন করার কথা জানান। আওয়ামী লীগ আমলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চীন আগ্রহ প্রকাশ করে। পরে ভারত যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখালে প্রকল্পটি ঝুলে যায়। চীন সমীক্ষাও করেছিল। বিএনপি ক্ষমতায় এসে প্রকল্পটিতে জলাধার যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গত ১৯ মে এই সিদ্ধান্ত হয়। চলতি সপ্তাহে সরকারপ্রধানের চীন সফরে তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প বা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে তিস্তা প্রকল্পের যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই দ্রুত শুরু করতে একমত হয়েছে। গত রোববার সংসদে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, চলতি বছরেই এই কাজ শুরু হবে।
৩০ জুন রবিবার সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তঃনদী সংযোগের অভাবে বাংলাদেশ ভুগছে। এর ফলে অনেক নদীর নাব্য হারিয়ে গেছে এবং বিভিন্ন এলাকায় সেচ ও পানির সংকট তৈরি হয়েছে। এমন এলাকা পরিদর্শন করেছি, যেখানে বর্ষায় চারদিকে পানি থাকলেও অল্প দূরের কৃষকরা পানির অভাবে জমিতে সেচ দিতে পারেন না। এই সমস্যা সমাধানে দেশব্যাপী নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পানিপ্রবাহ, সেচব্যবস্থা এবং বন্যাব্যবস্থাপনা যাতে উন্নত করা যায় এ লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি চলছে। গত তিন মাসে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখনন করা হয়েছে।
কৃষকদের জন্য সরকারের সহায়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের অন্যতম প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ এবং তার সুদ মওকুফ করা। এতে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন। কৃষকদের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকার বিশেষ কৃষক কার্ড চালু করেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪৩ লাখ কৃষক এই কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা এবং অন্তত ১০টি অতিরিক্ত সেবা পাবেন। কৃষকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছি।
যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানো এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সেবার পরিধি বাড়াতে সরকার কাজ করছে। বিদেশে তাদের ভোগান্তি কমাতে প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য নয়, জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, দুর্বল পরিকল্পনা ও অবহেলার কারণে দেশের জ্বালানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানকে অবহেলা করে বিদেশি কোম্পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকটের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পরিস্থিতি আবারও প্রমাণ করেছে যে আমদানিনির্ভর জ্বালানিব্যবস্থা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।
শিক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষিত ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন জনগোষ্ঠীই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তবে আগের শাসনামলে শিক্ষাব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করা হয়েছিল। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।
পাচারের টাকা ফিরিয়ে আনা হবে : অর্থনৈতিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিদেশে পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের করভার লাঘব, কালো টাকা সাদা করার বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহার এবং দেশীয় শিল্প ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষার প্রসারে একাধিক সংশোধনী প্রস্তাব আনেন।
করমুক্ত ব্যক্তি আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী। কালো টাকা সাদা করার বিধান প্রত্যাহারে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। দেশের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর প্রযোজ্য ১০ শতাংশ কর হ্রাস করে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন।
এ সময় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবকে অভিনন্দন জানান। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সাইকেলের ওপর সকল শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মাত্র বিরোধী দলের নেতা তাদের অবস্থান থেকে একটি প্রস্তাবনা দিয়েছেন। প্রস্তাবটির সকল কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যতটুকু বিবেচনা করা যায়, তা করার জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাচ্ছি।
অতীত নয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা প্রয়োজন: প্রস্তাবিত বাজেটকে জীবনবান্ধব বলে আখ্যা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতে ভালোমন্দ কী হয়েছে আমি সে বিতর্কে আর যাব না। আমাদের অবশ্যই সামনে চলতে হবে। দুঃখজনকভাবে একটি চিত্র বারবার দেখেছি, যখন ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে যাই, তখন অনেক বেশি অতীত নিয়ে কথা বলি। অথচ দেশের প্রত্যেক মানুষ চায়, আমরা ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলি।
তারেক রহমান বলেন, বাস্তবতা অনেক কঠিন। তারপরেও বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে যে বাজেটটি আমরা উপস্থাপন করেছি, অবশ্যই আমরা চেষ্টা করেছি আমাদের সর্বোচ্চ বুদ্ধি, বিবেক ও জ্ঞান দিয়ে এমন একটি বাজেট উপস্থাপন করতে; যাতে শ্রেণি-পেশা ও সমাজের সকল মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তির শ্বাস ফেলতে পারে। আমরা অতীতে লক্ষ্য করেছি যে বাজেট উপস্থাপনের আগে ও পরে অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম হঠাৎ করে কোনো কারণ ছাড়াই বেড়ে যেত। তবে এ বছর আমরা সেরকম কোনো দৃশ্য দেখিনি। নিত্যপ্রয়োজনীয় বলতে সাধারণত যা বুঝে থাকি, এরকম ৬১টি পণ্যের ওপর থেকে কর প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান আরও বলেন, সরকার পরিচালনার দায়িত্ব যখন গ্রহণ করেছিলাম তখন একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছিলাম। তার ভেতরে দুর্নীতি, লোপাট, অব্যবস্থাপনা এবং ভুলনীতির কারণে দেশের অর্থনৈতিক খাত সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসস্তূপ হয়ে গিয়েছিল। এই অবস্থা থেকে আমরা অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছি।
সরকারপ্রধান বলেন, বিরোধী দলের নেতাও বলেছেন, আগে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছিল, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবেও যেটি স্বীকৃত। দেশের উৎপাদন এবং বিনিয়োগ প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। মূল্যস্ফীতি কী অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিল আজ থেকে দুই আড়াই বছর আগে সেটি বোধহয় আমরা সকলেই হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলাম।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজার অর্থনীতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাত। এই খাত এমন অবস্থায় গিয়ে পৌঁছেছিল মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে আত্মহত্যাও করেছিল। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার ও অপচয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কী ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছিল সেটি নিশ্চয়ই কারও অজানা নয়। টাকার যে এক্সচেঞ্জ এটি ৪০ শতাংশ নেমে গিয়েছিল।

সর্বশেষ - রাজনীতি

আপনার জন্য নির্বাচিত

বরগুনার বেতাগীতে স. প্রা. বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অসদাচরণ ও দুর্ণীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় লঘুদণ্ড

এনইআইআর পদ্ধতি চালুর প্রতিবাদে বিটিআরসি ভবনে হামলা ও ভাঙচুর

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের কমিটি ঘোষণা

ফরিদপুরে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত ৪

তরুণ প্রজন্মের ত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না : নৌ পরিবহন উপদেষ্টা

গণহত্যাকারীদের রাজনীতি করার অধিকার নেই: ডা. শফিকুর রহমান

বড়দিনে আতশবাজি, পটকা ফুটানো ও ফানুস ওড়ানো নিষিদ্ধ

সিপিপি’তে দুর্নীতির বরপুত্র আহমাদুল হক

ইসির সংলাপে যা বললেন সাংবাদিকরা

ইসির সংলাপে যা বললেন সাংবাদিকরা

নতুন বিপদের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে :মির্জা ফখরুল