নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ ও লিবিয়া—দুই দেশেই সক্রিয় সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের কারণে বিদেশে পাড়ি জমাতে চাওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সাগরে অপ্রত্যাশিত মৃত্যু ঘটছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই চক্রের সদস্যরা উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিপজ্জনক পথে পাঠিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেছেন, গ্রিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এরই মধ্যে জীবিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং তাদের পরিচয় ও বর্তমান অবস্থার বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, নিহত ও যাত্রীদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল, যা ঘটনাটিকে আরও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এটি প্রমাণ করে যে পাচারকারীরা কোনো ধরনের ঝুঁকি বা মানবিক দিক বিবেচনা না করেই মানুষকে বিপজ্জনক যাত্রায় ঠেলে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভুল তথ্য থাকলে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। জীবিতদের দেশে ফিরিয়ে আনা একটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন হওয়া প্রক্রিয়া। সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা, গ্রিস সরকারের নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, শারীরিক ও আইনি অবস্থা বিবেচনা করা ও এরপরই তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শ্যামা ওবায়েদ বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে দ্রুত এ চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা যায়। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আইন ও বাংলাদেশের আইন—উভয় ব্যবস্থায় বিচার নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এরই মধ্যে ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে। শুধু এ ঘটনার বিচার নয়—দীর্ঘমেয়াদে মানবপাচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। এটি বন্ধে আমাদের স্থায়ী সমাধান বের করতে হবে।
উল্লেখ্য, লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ভাসমান একটি নৌকায় থাকা কমপক্ষে ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ২৬ জনকে, যাদের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি। মৃতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের অন্তত ১০ জন রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে জানা যায়, দীর্ঘ যাত্রাপথে খাবার ও পানির অভাবে এসব মৃত্যু ঘটে। নৌকাটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন সাগরে ভাসমান ছিল, কিন্তু পর্যাপ্ত খাদ্য ও পানির ব্যবস্থা ছিল না বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।


















