অপরাধচিত্র ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার রায় স্থগিত চেয়ে করা আবেদনের ওপর আদেশের জন্য আগামীকাল দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ আজ মঙ্গলবার আদেশের এই দিন ধার্য করেন। একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিনের করা ওই আবেদনে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে যোগ দেওয়া থেকে সরোয়ারকে বিরত রাখার আরজিও রয়েছে।
আগের ধারাবাহিকতায় আবেদনের ওপর গতকাল শুনানি নিয়ে বিষয়টি আজ আদেশের জন্য রাখা হয়েছিল বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবী। তবে বিষয়টি শুনানির জন্য আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ১৯ নম্বর ক্রমিকে ওঠে। পরে আদালত আদেশের জন্য আগামীকাল দিন ধার্য করেন।
সরোয়ার আলমগীরের আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, ‘আদেশের জন্য আজ দিন ছিল। আদেশ হয়নি। আজ আদেশের জন্য আগামীকাল দিন নির্ধারিত হয়েছে।’
জামায়াতের প্রার্থী নুরুল আমিনের অন্যতম আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ‘গতকাল আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ আদেশের জন্য রাখা হয়েছিল। তবে বিষয়টি আজকের কার্যতালিকায় শুনানির কলামে ছিল। ক্রম অনুসারে বিষয়টি উঠলে আজ আদালত আদেশের জন্য আগামীকাল নতুন তারিখ রেখেছেন।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় গত ১২ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) সরোয়ারের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। প্রার্থিতা ফিরে পেতে তিনি রিট করেন। হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সারোয়ার অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তাঁর ফলাফল প্রকাশ সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে স্থগিত ছিল।
সরোয়ারের করা রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ৯ জুলাই রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের ইসির সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষিত হয়।
হাইকোর্টের রায়ের পর চট্টগ্রাম-২ আসনে সরোয়ারকে বিজয়ী ঘোষণা করে ৯ জুলাই গেজেট প্রকাশ করে ইসি সচিবালয়। সেদিন সন্ধ্যায় সরোয়ার সংসদ সদস্যের শপথ নেন।
এ অবস্থায় হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে জামায়াতের প্রার্থী নুরুল ১২ জুলাই আপিল বিভাগে আবেদন করেন। চেম্বার আদালত হয়ে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য ওঠে।
আদালতে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী উপস্থিত ছিলেন। সরোয়ারের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
দুই প্রার্থীর আইনি লড়াই : নথিপত্র থেকে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ারের দাখিল করা মনোনয়নপত্র গত ২ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তা গ্রহণ করেন। এ নিয়ে ইসিতে আপিল করেন আসনটির জামায়াতের প্রার্থী নুরুল। ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে তিনি এ আপিল করেন।
আপিল মঞ্জুর করে সরোয়ারের মনোনয়নপত্র গ্রহণের রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বাতিল করে গত ১৮ জানুয়ারি রায় দেয় ইসি। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ারের প্রার্থিতা বাতিল হয়।
এ নিয়ে নির্বাচনের আগে হাইকোর্টে রিট করেন সরোয়ার। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল দিয়ে সরোয়ারকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে এবং ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেন।
হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন জামায়াতের প্রার্থী নুরুল। ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে আবেদনটি করেন তিনি।
লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে ৩ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আদেশে বলা হয়, যদি তিনি (সরোয়ার) নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে সফল হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ (যতটুকু প্রার্থী হিসেবে তাঁর জন্য প্রযোজ্য) এ-সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
এরপর ৩১ মার্চ নিয়মিত আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী। এই আপিলের ওপর ১৬ জুন আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আপিল নিষ্পত্তি করে দেওয়া আদেশে আপিল বিভাগ দ্রুত, সম্ভাব্য দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি করতে বলেন। রুল নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশ চলমান থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ারের নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ফলাফল প্রকাশ (যতটুকু প্রার্থী হিসেবে তাঁর জন্য প্রযোজ্য) স্থগিত থাকবে।
আপিল বিভাগের আদেশের পর সরোয়ারের রিটের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ৯ জুলাই হাইকোর্ট রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে রায় দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন জামায়াতের প্রার্থী।

















