নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানীর চানখারপুলে ছয়জন হত্যার ঘটনায় দেওয়া রায় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও কয়েকজন আসামির ক্ষেত্রে সীমিত সাজা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে প্রসিকিউশন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রায় ঘোষণার পরপরই এমন প্রতিক্রিয়া জানান চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও যেভাবে সীমিত সাজা দেওয়া হয়েছে, তা ন্যায়বিচারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে সন্তুষ্ট নয় এবং উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানো হবে।
তিনি আরও বলেন, কনস্টেবল সুজন গুলি চালানোর সময় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন। যদিও তিনি সে সময় একজন কনস্টেবল ছিলেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ পালনের যুক্তি আদালত বিবেচনায় নিয়েছে, তবুও রাষ্ট্রপক্ষের মতে এই আচরণ গুরুতর অপরাধের ইঙ্গিত বহন করে। এ কারণে সাজা আরও কঠোর হওয়া উচিত ছিল।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, আদালত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, কোনো বেআইনি নির্দেশ মানতে সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা বাধ্য নন। বেআইনি আদেশ পালন করলে আদালতের কাছ থেকে ছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।
মৃত্যুদণ্ড ও কারাদণ্ডের আদেশ :
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং সাবেক এডিসি (রমনা) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
এছাড়া রমনা জোনের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছর, শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেনকে চার বছর এবং কনস্টেবল মো. সুজন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


















