সোমবার , ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ৮ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খুলনা
  7. খেলাধুলা
  8. চট্রগ্রাম
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. ঢাকা
  12. তথ্য-প্রযুক্তি
  13. প্রবাসের কথা
  14. বরিশাল
  15. বিনোদন

হাদি হত্যার বিচার অবশ্যই হবে, সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ : ফরিদা আখতার

প্রতিবেদক
Newsdesk
জানুয়ারি ১৯, ২০২৬ ১০:০১ অপরাহ্ণ

‎ঝালকাঠি প্রতিনিধি : 

‎মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি শুধু ঝালকাঠির নন, তিনি পুরো বাংলাদেশের সম্পদ ছিলেন। তিনি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি শুরু করেননি। ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েই তিনি সংসদে যেতে চেয়েছিলেন। হাদি হত্যার বিচার অবশ্যই হতে হবে, এই সরকার এ বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ।

‎সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসন শিশু পার্ক প্রাঙ্গণে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‎ফরিদা আখতার বলেন, ঝালকাঠি জেলার নাম জেলেদের নামকরণ থেকে এসেছে। এই জেলায় এসে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমি নিজেও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছি, তাই গর্বটা আরও বেশি। এই জেলার সন্তান শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একজন নেতা। ঢাকা-৮ আসনে তিনি নিজেই প্রার্থী হয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের কাছে ভোট চেয়েছেন। ক্ষমতা দেখাননি, মানুষের দ্বারেদ্বারে পৌঁছেছিলেন। তার দেশপ্রেমের জন্যই মানুষ তাকে ভালোবাসত।

তিনি বলেন, অন্য অনেক প্রার্থী এমপি হতে চান ক্ষমতার জন্য। কিন্তু হাদি তা চাননি। তিনি সংসদে যেতে চেয়েছিলেন মানুষের কথা বলার জন্য, ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য। এমন মানুষের সংসদে খুব প্রয়োজন ছিল। আমরা তাকে হারিয়েছি, এটা জাতির জন্য গভীর দুঃখের বিষয়।

‎উপদেষ্টা বলেন, আমি নিজে হাদিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম। তার অবস্থা দেখে সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বুঝেছি, তার পরিবারও অত্যন্ত সচেতন ও জ্ঞানী। আপনারা গর্বিত, আমরাও গর্বিত, পুরো দেশ গর্বিত।

‎জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে ফরিদা আখতার বলেন, আমি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ১৪০০ শহীদকে স্মরণ করছি। আবু সাঈদ, মুগ্ধ, আনাসসহ যারা শহীদ হয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, যারা চোখ হারিয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন—তাদের কষ্ট কল্পনাও করা যায় না। এক তরুণ চোখ হারিয়ে শুধু তার মায়ের মুখ দেখতে চায়। এই বাস্তবতা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না।

‎তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো আইন মেনে হয়নি, ফ্যাসিবাদের পতনও কোনো আইন মেনে হয়নি। ছাত্রদের ম্যান্ডেট নিয়ে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসেছে। তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতেই হবে। ফ্যাসিবাদের পতন না হলে কি ২০২৬ সালে নির্বাচন হতো? তারা কি নির্বাচন দিত?

‎গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, আমাদের সবার। প্রার্থীদের সংসদে পাঠানোই শেষ কথা নয়। সংসদে গিয়ে যেন পুরোনো ফ্যাসিবাদী ধারা আবার ফিরে না আসে, ক্ষমতায় আঁকড়ে ধরে থাকার সংস্কৃতি যেন বন্ধ হয়—সেজন্য গণভোটে আপনার সিদ্ধান্ত খুব গুরুত্বপূর্ণ। হ্যাঁ ভোট দিয়ে সেই পথ বন্ধ করে দিতে হবে।

‎তিনি উপস্থিত ইমাম, খতিব ও সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা অনেক মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারেন। মানুষ আপনাদের কথা শোনে। ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’-এর পার্থক্য মানুষকে বুঝিয়ে দিন। ‘হ্যাঁ’ দিলে জাতি কী পাবে, না দিলে কী হারাবে—এটা স্পষ্ট করে বলুন।

‎ফরিদা আখতার বলেন, আপনারা কি এমন বাংলাদেশ চান, যেখানে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকবে, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে, রাষ্ট্র চলবে জবাবদিহিতার ভিত্তিতে? যেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও পিএসসি গঠনে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করবে। যেখানে ইচ্ছেমতো সংবিধান পরিবর্তন করা যাবে না, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে জনগণের মতামত নেওয়া হবে গণভোটে। যেখানে বিরোধী দলের সম্মান থাকবে, প্রধানমন্ত্রীর সময়সীমা থাকবে, নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়বে। বিচারব্যবস্থা স্বাধীন থাকবে, মৌলিক অধিকার আরও শক্তিশালী হবে, ইন্টারনেট বন্ধ করে নাগরিক কণ্ঠ রোধ করা যাবে না। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য থাকবে, অপরাধীকে খেয়ালখুশিমতো ক্ষমা করা যাবে না। পাশাপাশি বাংলার মর্যাদার সঙ্গে সব জাতিগোষ্ঠীর ভাষা পাবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি। তাহলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।

‎অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মো. মমিন উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্যে তিনি ঝালকাঠির ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন এবং গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তনে জনগণের সম্মতির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। জেলা তথ্য অফিসার লেলিন বালা গণভোট ও নির্বাচন বিষয়ে একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করেন।

‎অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, সিভিল সার্জন মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মো. আলম হোসেন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

‎সভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য দেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোস্তফা কামাল মন্টু, জেলা জামায়াত আমির হাফিজুর রহমান, জেলা বিএনপি সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন, ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আককাস সিকদার, ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা আবদুল হাই নিজামী, জেলা এনসিপি আহ্বায়ক মাইনুল ইসলাম মান্না, জুলাই বিপ্লবী রাইয়ান বিন কামাল, নারী উদ্যোক্তা শাহিমা আক্তার, শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম এবং এনজিও প্রতিনিধি ইলেন বিশ্বাস।

সর্বশেষ - জেলার খবর