নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মাওঃ শামীম আহমেদকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলীয় নোটিশে তাঁর বিরুদ্ধে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মাওঃ মোঃ সেলিম রেজা স্বাক্ষরিত এক ‘অবগতির নোটিশে’ এ তথ্য জানানো হয়। নোটিশে কেন্দ্রীয় কমিটির ১৫ নম্বর সদস্য মাওঃ শামীম আহমেদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে অবিলম্বে বহিষ্কারের নির্দেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের তাঁর সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক যোগাযোগ না রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নোটিশের বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মাওঃ মোঃ সেলিম রেজা বলেন, “হ্যাঁ, নোটিশটি সত্যি। কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে এবং দলের বৃহত্তর স্বার্থে সকলকে অবগত করার জন্য নোটিশটি দেওয়া হয়েছে।”
তবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মাওঃ শামীম আহমেদ। তাঁর দাবি, তাঁকে নিয়ে এর আগে তিনবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এসব চিঠি কোন গঠনতন্ত্রের আলোকে দেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানেন না। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, “আল্লাহপাক ভালো জানেন।”
অভিযোগের পর অভিযোগ:
শামীম আহমেদকে বহিষ্কারের পর তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন প্রকাশিত প্রতিবেদন ও দলীয় নেতাকর্মীদের বক্তব্যে তাঁর বিরুদ্ধে কমিটি গঠন ও পদ দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব বিস্তার এবং দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।
কমিটি গঠন ঘিরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ:
ওলামা দলের কয়েকজন পদবঞ্চিত ও ত্যাগী নেতার অভিযোগ, বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি গঠন ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে শামীম আহমেদের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত নতুন ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের সাংগঠনিক পদে বসানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় ছিল এবং সেখানে অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
পাথরঘাটা-বামনায় চাঁদাবাজির অভিযোগ:
শামীম আহমেদকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগের আরেকটি অধ্যায় বরগুনার পাথরঘাটা ও বামনা এলাকা। তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, লুটপাট ও স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
২০২৫ সালের একটি ঘটনায় বরগুনার পাথরঘাটায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর কাছ থেকে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে শামীম আহমেদের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচিত আল হাদীদের বিরুদ্ধে মামলা এবং পরবর্তীতে আদালতের আদেশে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়। একই ঘটনায় শামীম আহমেদের বিরুদ্ধেও তাঁর সহযোগীকে মদদ দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছিল।
তদবিরের টাকাফেরত দেওয়ার আশ্বাস:
শামীম আহমেদের বিরুদ্ধে ফরিদপুরে এক সরকারি চাকরিজীবীর কাছ থেকে তদবিরের জন্য টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে শামীম আহমেদের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড রয়েছে বলে জানা গেছে।
কথোপকথনে শামীম আহমেদ তদবিরের কাজটি করতে না পারার কথা বলে দ্রুত টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি।


















