পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ (এমআর) আবিদুরের বিরুদ্ধে একাধিক তরুণীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল, অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং কোম্পানির মূল্যবান ওষুধ চুরির মাধ্যমে অবৈধ অর্থ উপার্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক ভুক্তভোগী নারীর মৌখিক ও লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রেমের ফাঁদ ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ভয়ঙ্কর রূপ : অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত আবিদুর নিজেকে একটি ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হিসেবে পরিচয় দিয়ে স্থানীয় তরুণীদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। দামি উপহার ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক নারীর বিশ্বাস অর্জন করেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী তরুণী কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে জানান,
”আবিদুর প্রথমে খুব ভালো সেজে আমার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। একদিন কৌশলে তার বাসায় নিয়ে আমাকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করে। তখন সে গোপনে আমাদের কিছু ছবি এবং ভিডিও ধারণ করে রাখে। এখন সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আমাকে প্রতিনিয়ত ব্ল্যাকমেইল করছে এবং মোটা অঙ্কের টাকা ও অনৈতিক সুবিধা দাবি করছে।”
সহকর্মীদের বিস্ফোরক মন্তব্য ও ওষুধ চুরির অভিযোগ : আবিদুরের কর্মক্ষেত্রের একাধিক সহকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তার এই চারিত্রিক স্খলন নতুন কিছু নয়। এর আগেও একাধিক নারীর সাথে পরকীয়া ও অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার কারণে বিভিন্ন মহলে তাকে নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
শুধু চারিত্রিক অনৈতিকতাই নয়, আবিদুরের বিরুদ্ধে কোম্পানির “অসুধ চুরি” ও কালোবাজারে বিক্রির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ উপার্জনের অভিযোগও তুলেছেন তার সহকর্মীরা। চিকিৎসকদের দেওয়ার নাম করে কোম্পানির দামি দামি ওষুধের স্যাম্পল ও স্টক ফাইল কৌশলে সরিয়ে বাইরে বিক্রি করে দেওয়ার একাধিক প্রমাণ স্থানীয় ফার্মেসি মহলে চাউর রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক ভূমিকা : এসব বিষয়ে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস-এর পিরোজপুর এরিয়া ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং এক ধরণের রহস্যজনক কৌশল অবলম্বন করেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, এরিয়া ম্যানেজারের এমন নির্লিপ্ত ভূমিকা প্রকারান্তরে এই অপরাধীকে উৎসাহিত করছে এবং স্থানীয় নারীদের নিরাপত্তাকে আরও হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। একটি প্রতিষ্ঠিত ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তাদের এমন অপেশাদার আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
অভিযুক্তের পরিচয় ও বর্তমান পরিস্থিতি : স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, অভিযুক্ত আবিদুরের গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার পত্তনীভাঙ্গা এলাকার মাউলতলা গ্রামে। তিনি স্থানীয় স্কুলশিক্ষক মোঃ শাহজাহানের পুত্র।
সুষ্ঠু তদন্তের দাবি : সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী এখনো মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। তবে স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও সুশীল সমাজের দাবি, অনতিবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শুরু করে। একজন শিক্ষকের সন্তান হয়ে এবং একটি নামী সংস্থায় কর্মরত থেকে কীভাবে একজন ব্যক্তি এভাবে নারীদের জীবন ধ্বংস ও প্রাতিষ্ঠানিক চুরির সাথে যুক্ত থাকতে পারে, তার সঠিক বিচার হওয়া প্রয়োজন। আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমেই কেবল এই ঘটনার প্রকৃত সত্য এবং আবিদুরের অন্ধকার জগতের সব তথ্য উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য আবিদুরের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, এমনকি পরবর্তীতে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এই বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


















