অপরাধচিত্র প্রতিনিধি (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর বাউফলে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে ছয়টি পদের বিপরীতে নিয়োগের তালিকায় উঠে এসেছে এক বিশেষ ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ চার আত্মীয়ের নাম। এর ফলে পটুয়াখালীর বাউফলে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ ও সুপারভাইজার নিয়োগ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
কাছিপাড়া ইউনিয়নের চূড়ান্ত ও অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা চারজন একই ইউনিয়নের সাবেক সমাজসেবা পরিদর্শক তোফাজ্জল হকের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন। তাদের নাম তার সুপারিশেই তালিকায় এসেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন তোফাজ্জল হক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের অধীনে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ কার্যক্রমে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের অংশ হিসেবে কাছিপাড়া ইউনিয়নে প্রকাশিত তালিকায় চারজনের নাম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
বাউফলে ফ্যামিলি কার্ডের ৬ পদের ৪টিতেই ‘বিশেষ ব্যক্তির’ আত্মীয়
তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তথ্য সংগ্রহকারী পদের প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত তালিকার ১ নম্বরে রয়েছেন রাবেয়া বেগম। অপেক্ষমাণ তালিকার ২ নম্বরে রয়েছেন ডালিয়া পারভিন। সুপারভাইজার পদে চূড়ান্ত তালিকার ৪ নম্বরে রয়েছেন মো. অলিউল্লাহ ইসলাম। আর অপেক্ষমাণ তালিকার ৭ নম্বরে রয়েছেন ফারজানা আক্তার।
অভিযোগ রয়েছে, এই চারজনই কাছিপাড়া ইউনিয়নের সাবেক সমাজসেবা পরিদর্শক তোফাজ্জল হকের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়।
নিয়োগের ফল প্রকাশের দিন এ বিষয়ে ‘Md. Kawsar Islam’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে তিনি লেখেন, ‘নাটকীয় নিয়োগ, মোট নিল লোক ৬ জন, তার মধ্যে ৪ জন একই বাড়ির। বাহ!’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কাছিপাড়া ইউনিয়নের সাবেক সমাজসেবা পরিদর্শক তোফাজ্জল হক। তিনি বলেন, ‘আমি কারও জন্য কোনো সুপারিশ করিনি। আর আমার এত বড় ক্ষমতাও নেই যে কারও জন্য সুপারিশ করব। চারজনই আমার প্রতিবেশী। তারা আমার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় নন, দূরসম্পর্কের আত্মীয়। এ বিষয়টি নিয়ে আমার নামে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী নির্বাচন কমিটির সভাপতি সালেহ আহমেদ বলেন, ‘আমরা মেধা যাচাইক্রমেই নিয়োগ দিয়েছি। কে কোন আত্মীয় বা কার কী পরিচয়, তা আমাদের যাচাই করার সুযোগ বা এখতিয়ার ছিল না। তবে এ বিষয়ে যদি কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ দাখিল করেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


















