Wednesday , 7 October 2026 |
  1. অনিয়ন ও দুর্নীতি
  2. অপরাধ
  3. অপরাধচিত্র বিশেষ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন-আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. কক্সবাজার
  8. কিশোরগঞ্জ
  9. কুড়িগ্রাম
  10. কুমিল্লা
  11. কুষ্টিয়া
  12. কৃষি ও প্রকৃতি
  13. ক্রীড়াঙ্গন
  14. খুলনা
  15. খেলাধুলা

সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে খৎনার পর ৫০ শিশুর অসুস্থতার অভিযোগ, দুজন টেকনাফে রেফার

প্রতিবেদক
Newsdesk
October 7, 2026 7:42 am

এহসান উল্লাহ ও আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ হুবাইব টেকনাফ থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপে বিনামূল্যে সুন্নতে খৎনা করানোর দুই দিনের মধ্যে অন্তত ৫০ শিশুর ক্ষতস্থানে ইনফেকশন ফুলে যাওয়া ও রক্তক্ষরণের মতো জটিলতা দেখা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অসুস্থ শিশুদের নিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে স্বজনরা সেন্টমার্টিন দ্বীপ হাসপাতালে ভিড় করেন এর মধ্যে দুই শিশুর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য টেকনাফে রেফার করা হয়েছে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দ্বীপজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে শিশুদের অসুস্থতার প্রকৃত কারণ চিকিৎসাগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর সেন্টমার্টিন অবকাশ রিসোর্টে ‘আল মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও সুন্নতে খৎনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এমবিবিএস চিকিৎসক মো. আব্দুর রহিম রিফাতের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম ওই কর্মসূচিতে সেন্টমার্টিনের ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী ২১০ শিশুর খৎনা করায়। পরে শিশুদের প্রয়োজনীয় ওষুধও দেওয়া হয়।
এর দুই দিনের মাথায় বেশ কয়েকটি পরিবারের শিশুদের খৎনার ক্ষতস্থানে ব্যথা, ফুলে যাওয়া, পুঁজ ও রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ দেখা দেয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় তারা শিশুদের নিয়ে সেন্টমার্টিন হাসপাতালের শরণাপন্ন হন।

হাসপাতালে ৫০ শিশুর চিকিৎসা:

সেন্টমার্টিন হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খৎনা করানো অন্তত ৫০ শিশু বিভিন্ন ধরনের জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। তাদের অনেকের ক্ষতস্থানে ইনফেকশন ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ দেখা যায়।
সেন্টমার্টিন হাসপাতালের উপসহকারী কর্মকর্তা ডা. শহীদুল ইসলাম বলেন, “সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খৎনা করানো ৫০ শিশু চিকিৎসা নিতে এসেছে। অনেকের ইনফেকশন হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দুজন শিশুর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের টেকনাফে রেফার করা হয়েছে।”
রেফার করা দুই শিশুর মধ্যে মো. ফয়সাল ও আইনুল ইসলাম রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

স্বজনদের অভিযোগ, স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে প্রশ্ন:

ভুক্তভোগী শিশুদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, খৎনা করানোর পর থেকেই শিশুদের ক্ষতস্থানে অস্বাভাবিক ব্যথা, ফোলা ও পুঁজ দেখা দেয়। পরে কোনো কোনো শিশুর ক্ষতস্থান থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা কবির আহমেদ বলেন, “দুই দিন আগে একটি মেডিকেল টিমের মাধ্যমে আমার ছেলে আইনুল ইসলামকে (৯) খৎনা করিয়েছিলাম। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধও দিয়েছি। এরপর ছেলের এমন অবস্থা দেখে খুব চিন্তিত। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে টেকনাফে রেফার করা হয়েছে। কিন্তু ট্রলার না পাওয়ায় তাকে টেকনাফে নিতে পারছি না।”
কয়েকটি পরিবারের দাবি, খৎনা করানোর সময় স্বাস্থ্যবিধি, জীবাণুমুক্ত সরঞ্জাম ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সতর্কতা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিশুর খৎনা করানোর কারণে চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে শিশুদের ইনফেকশন বা রক্তক্ষরণের কারণ খৎনা কর্মসূচির চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কি না, তা চিকিৎসাগত পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

আয়োজকদের বক্তব্য:

এ বিষয়ে ‘আল মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এর চেয়ারম্যান মুফতি মাহবুব উল্লাহ বলেন, “আমি আজ সকাল পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে ছিলাম। কিন্তু কোনো শিশুর ইনফেকশনের তথ্য পাইনি। আমরা ১২০ জন শিশুকে বিনামূল্যে খৎনা করার পরিকল্পনা নিয়ে সেন্টমার্টিনে গিয়েছিলাম। নির্ধারিত সংখ্যার পর যারা এসেছে, তাদের কাছ থেকে চিকিৎসকের ফি বাবদ ৭০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে, কর্মসূচির মেডিকেল টিমের প্রধান চিকিৎসক মো. আব্দুর রহিম রিফাতের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রশাসনের নজরে বিষয়টি:

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, “খৎনা করানোর পর বেশ কিছু শিশু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার কথা শুনেছি। আমি বিষয়টি খোঁজখবর নিচ্ছি। ঘটনায় মেডিকেল টিমের গাফিলতি পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, একই কর্মসূচিতে খৎনা করানো শিশুদের মধ্যে ঠিক কতজন বর্তমানে জটিলতায় ভুগছে, অসুস্থতার প্রকৃত কারণ কী এবং কর্মসূচিতে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিধির নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
অপরাধচিত্রের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ - জেলার খবর