বরিশাল প্রতিনিধি :
বরিশালে অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ হাওলাদারের অণ্ডকোষ চেপে ধরে মারধর এবং চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে নগরীতে অভিযান চালিয়ে লিটু ও তার সহযোগী আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আল মামুন উল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা যায়, গত ২৭ জুন সন্ধ্যার পর নগরীর সদর রোডে অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের অফিসে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ হাওলাদারের অন্ডকোষ চেপে ধরে ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে দুটি চেক ও স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ ওঠে যুবদল নেতা মোস্তাফিজ রহমান লিটু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। তবে শনিবার রাতে (৪ জুলাই) এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আজিজ আদালতে নালিশি মামলা করেন।
তবে ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অভিযুক্ত লিটু যুবদলের কেউ নয় দাবি করে বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বরিশাল জেলা ও মহানগর যুবদল। আজ রবিবার ১ টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এইচএম তসলিম উদ্দীন লিখিত বক্তব্যে বলেন, লিটু বরিশাল জেলা ও মহানগর যুবদলের কমিটিতে নেই। এমনকি বিগত দিনে কোন আন্দোলন সংগ্রামে সে অংশ নেয়নি। তিনি যুবদলের কেউ নন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নগরীর কাঠপট্টি সড়কের বাসিন্দা। তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত।
ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ জানান, মোস্তাফিজুর রহমান লিটু একসময় তাদের আবাসন ব্যবসার অংশীদার ছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগের বিপরীতে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে হিসাব নিষ্পত্তি করা হয় এবং কোনো পাওনা নেই এমন অঙ্গীকারনামা দেওয়া হয়। এরপরও তিনি ১ কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন। ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লিটু দলবল নিয়ে তার অফিসে ঢুকে তাকে মারধর করে জোরপূর্বক ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক ও দুটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আব্দুল আজিজ আরও জানান, ঘটনার পর তিনি ব্যাংকে অভিযোগ করায় ওই চেক থেকে টাকা উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি। সিসিটিভি ফুটেজ তিনিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন বলেও জানান।
অভিযোগের বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু বলেন, যারা ওই দিন কার্যালয়ে গিয়েছিলেন, তারা সবাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। আব্দুল আজিজ পরিচালকদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে পরিচালকেরা সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবেন।
কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আল মামুন উল ইসলাম বলেন, আদালতে মামলার পর রবিবার দুপুরে নগরীতে অভিযান চালিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও তার সহযোগী আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

















