ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহ নগরীর ছত্রিশবাড়ি কলোনি এলাকায় ভাড়া বাসায় রাজিব আহম্মেদ ওরফে রুবেল (৩৮) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির দাবি, বাড়িওয়ালাকে মারধর ও শ্লীলতাহানির ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে তার চার ছেলে পরিকল্পিতভাবে রুবেলকে হত্যা করেন। এ ঘটনায় ওই চার ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহ পিবিআই জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।
গ্রেফতাররা হলেন রহমত (৩০), জনি (২৮), রকি (২৬) ও ইমরাজ (১৮)। তারা সবাই বাড়ির মালিক পারুল বেগমের ছেলে। তাদের মধ্যে তিনজন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
পিবিআই জানায়, ঘটনার পরপরই ছায়া তদন্ত শুরু করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং পিবিআই সদর দপ্তরের সহযোগিতায় হত্যাকাণ্ডের এক দিনের মধ্যেই মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, প্রায় এক মাস আগে রুবেল ওই বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নেন। তার চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বাড়ির মালিকের আপত্তি ছিল। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বাসায় বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে আড্ডা দিতেন এবং মাদক সেবন করতেন। এ কারণে বাড়ির মালিক তাকে পরবর্তী মাস থেকে বাসা ছেড়ে দিতে বলেন। তবে তিনি বাসা ছাড়তে রাজি হননি।
রোববার ভোর ৬টা থেকে ১০টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সকালে রুবেল বাড়িওয়ালা ও তার ছেলেদের কক্ষের দরজায় লাথি মেরে ঘুম থেকে তোলেন। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি বাড়ির মালিককে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বাড়ির মালিকের চার ছেলে পরিকল্পনা করে একটি চায়নিজ কুড়াল দিয়ে রুবেলের গলায় আঘাত করে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যান।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চার ভাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা জানিয়েছেন, মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শ্লীলতাহানির ঘটনার জেরেই তারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি- না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পিবিআই জানায়, গ্রেফতার যুবকরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
এদিকে নিহতের বাবা আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় বাড়ির মালিক পারুল বেগম, তার তিন ছেলেসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানান, মামলার এক নম্বর আসামি বাড়ির মালিক পারুল বেগম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি সুস্থ হলে তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে। আগে আটক হওয়া আরও দুই ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়ে তাদের সম্পৃক্ততাও তদন্ত করা হবে।
এর আগে রোববার (৫ জুলাই) সকালে নগরীর আর কে মিশন রোডের ছত্রিশবাড়ি কলোনির একটি ভাড়া বাসা থেকে রাজিব আহম্মেদ ওরফে রুবেলের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।


















