অপরাধচিত্র প্রতিনিধি (ঠাকুরগাঁও): নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, এলাকার মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে কেউ অপব্যবহার করবে না, কিংবা বাইরে থেকে নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে জাতীয় নির্বাচনকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা হবে না—এ নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। তাই যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অপতৎপরতা রোধে সতর্ক থাকতে হবে।
১৪ অক্টোবর বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন পদ্ধতি সম্পর্কে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচন পদ্ধতি এমনভাবে সাজাতে চায়, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ডিসি, এসপি বা ওসিদের সরানোর দাবি না তোলেন। সেখানে কোনো দলের কট্টর সমর্থক থাকলেও যেন নির্বাচন ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারেন। এটি আমাদের সম্মানের বিষয়।
নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আংশিক নয়, পুরো সত্য বলতে হবে। মূলধারার সংবাদকর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হবে। দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ছড়ানোর উৎস রয়েছে। এসব অপতথ্য মোকাবিলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সঠিক তথ্যের প্রবাহ বাড়ানোর পাশাপাশি মূলধারার সাংবাদিকদের সহায়তা নিতে হবে। সাংবাদিকেরা জবাবদিহির আওতায় থাকেন বলে তারা অন্তত মিথ্যা কথা বলবেন না।
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, ভোটের আগের রাতে নির্বাচনের সরঞ্জাম কেন্দ্রে পাঠানো হলে সেগুলো নিরাপদ রাখা এবং যথাস্থানে রাখার বিষয়টি জরুরি।
নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি স্থানীয় আতিথেয়তা গ্রহণ করবেন না, এমনকি এক গ্লাস পানিও নয় বলে জানান তিনি। প্রতিটি বাহিনীকে সামর্থ্য অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের রসদ ও সরঞ্জামের ব্যবস্থাপনা পরিকল্পিত হতে হবে।
সানাউল্লাহ বলেন, এখন পর্যন্ত ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর রয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর সুন্দর পরিবেশে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ধরে নিতে হবে সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে না। কারণ, এখানে যে পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য রয়েছেন, তা জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় তিন গুণ হবে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর সুযোগ থাকবে না বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, এবারও ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকবে এবং প্রতিটি কেন্দ্রের ফুটেজ সংগ্রহ করা হবে। কেউ যেন অসৎ উদ্দেশ্যে কাজ করার সুযোগ না পান, তা নিশ্চিত করা হবে। কেউ কোনো অপকর্ম করলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিহত করার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হকের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। এ ছাড়া রংপুর বিভাগ ও ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


















