গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক স্কুলছাত্রী ও এক যুবককে প্রকাশ্যে দেবদারু গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে। পরে সেই নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হলে অপমান ও লোকলজ্জায় বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে ওই শিক্ষার্থী।
গত ২৮ জুলাই (সোমবার) দুপুরে উপজেলার হাতিয়াড়া ইউনিয়নের রাহুথড় উদয়ন বিদ্যাপীঠ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার তিন দিন পার হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কিংবা স্থানীয় প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী (১৩) গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বরইভিটা গ্রামের বাসিন্দা এবং রাহুথড় উদয়ন বিদ্যাপীঠের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। অপর ভুক্তভোগী যুবক (২২) কাশিয়ানীর রাহুথড় গ্রামের বাসিন্দা।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই স্কুল চলাকালে ওই স্কুলছাত্রীকে রাহুথড় বড়ো ব্রিজ এলাকা থেকে ধরে এবং যুবককে নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আসা হয়। এরপর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি দেবদারু গাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে দুজনকে একসঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। সেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় শত শত মানুষের উপস্থিতিতে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন পুরো ঘটনার দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অন্যায় ও বেআইনি এই বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে হাতিয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নয়ন গোলদার, স্থানীয় যুবক জয় শিকদার, মিশন রায়সহ আরও কয়েকজন প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।
ঘটনার পর ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে চরম লোকলজ্জা ও মানসিক যন্ত্রণায় ওই ছাত্রী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে রাহুথড় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসকরা তাকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন এবং ভয়ে প্রকাশ্যে কোনো কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না।
তবে নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থী একাত্তরকে জানায়, স্কুল চালু অবস্থায় তাদের ক্যাম্পাসে দড়ি দিয়ে বাঁধা এবং পরে সেখান থেকে লাইব্রেরিতে নেওয়া হয়। এ ঘটনা স্কুলের শিক্ষকদের সামনে ঘটলেও তারা নির্যাতনকারীদের কিছু বলেন নাই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত নয়ন গোলদার বলেন, তাদেরকে আপত্তিকর অবস্থায় ধরার পর এলাকার কিছু যুবক আমার বাড়ির পাশ দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো। ঘটনা দেখে আমি তাদের দুজনকে স্কুলে নিয়ে অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিই। তবে গাছে বেঁধে নির্যাতন করার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।
বিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে এমন ঘটনার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার বলেন, ঘটনার দিন আমি স্কুলে উপস্থিত ছিলাম না, পরে বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমাদের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিও ঢাকায় ছিলেন। তিনি এলাকায় ফিরছেন, তার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাশিয়ানী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


















