জাহিদ হাসান , নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
নেত্রকোনায় জ্বালানি তেলের সংকটে অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন দিনে বন্ধ থাকে। যে কয়েকটি পাম্প খোলা থাকে, তাও আবার কিছু সময় তেল দিয়ে বন্ধ রাখা হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেককে তেল না পেয়ে ফিরতে হচ্ছে। এতে করে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। কোথাও কোথাও মারামারির ঘটনাও ঘটছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১৮টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ছয়টি, কলমাকান্দায় তিনটি, পূর্বধলায় তিনটি, আটপাড়ায় দুটি এবং দুর্গাপুর, বারহাট্টা, মদন ও কেন্দুয়ায় একটি করে স্টেশন রয়েছে। এসব ফিলিং স্টেশনগুলো বেশির ভাগ সময়ই বন্ধ থাকে। যে কয়েকটিতে তেল সরবরাহ করা হয় তাও অপ্রতুল। এতে করে স্টেশনগুলোতে তেল নিতে আসা বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষায় থাকতে হয়। নেত্রকোনা পৌরসভায় পাঁচটি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এরমধ্যে আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকেলে চারটা পর্যন্ত পাম্পগুলো ঘুরে দেখা গেছে শুধু গজিনপুর এলাকায় কৃষ্ণদাস ফিলিং স্টেশন ও ঢাকা বাস স্টেশনসংলগ্ন এআর খান পাঠান ফিলিং স্টেশন খোলা ছিল। এরমধ্যে এআর খান পাঠান ফিলিং স্টেশন দুপুর একটা থেকে দুইটা পযন্ত অতিরিক্ত চাপে এক ঘণ্টা বন্ধ রাখে। পরে জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেখানে উপস্থি হয়ে আবার তেল সরবরাহ শুরু করার নির্দেশ দেন। ওই ফিলিং স্টেশনটিতে দুপুর একটা থেকে বিকেল চারটা পযন্ত অপেক্ষা করে দেখা দেখে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রায় চার পাঁচশতাধিক চালক তেল নিতে সারিতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অর্ধেক টুকেন ছাড়াই তেল নিতে ভিড় জমান। সেখানে সদর উপজেলার লক্ষ্মীগঞ্জ এলাকার রহমত আলী নামের এক যুবক মোটরসাইলের তেলের টেং নিয়ে সারিতে দাঁড়িয়ে থাকেন। রহমত জানান তিনি সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন। বেলা ১১টার দিকে তেল শেষ হয়ে যায়। খুচরাভাবে কোথাও তেল না পেয়ে তিনি প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ তাঁর যানটি ঠেলে পাম্পে তেল নিতে আসেন। ক্লান্ত হয়ে মোটরসাইকেল পাম্পের থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে রেখে টেং খুলে পাম্পে আসেন। রহমত আলী বলেন, ‘দুপুর একটা থেকে চারটা পযন্ত তেলের স্লিপ ও টেংকি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। এখনো তেল নিতে পারতাছি না। চার দিন ঘুরে গত রবিবার রাতে ৩০০ টাকার অকটেন নিয়েছিলাম। আজ সকালে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে কিছুক্ষণ পর শেষ হয়ে যায়। এরপর পাঁচ কিলোমিটার পথ ঠেলতে ঠেলতে এখন তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করছি।’
নেত্রকোনা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রে ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘ জেলার ফিলিং স্টেশনগুলো জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না বিষয়টি ঠিক নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ে ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

















