নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দুই দশকেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন–২০২৫ এর ভোটগ্রহণ চলছে। ২১ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম জকসু নির্বাচনে ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস।
আজ (মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি) সকাল থেকেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভোটকেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। ভোট দিয়ে বেরিয়ে অনেকেই আনন্দে একে অপরকে জড়িয়ে ধরছেন, অমোচনীয় কালি লাগানো আঙুলের ছবি তুলছেন, কেউ আবার দলবেঁধে ছবি তুলে স্মরণীয় মুহূর্ত ধরে রাখছেন।
নির্বাচন একাধিকবার পেছালেও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমেনি। সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী জামিল বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর ভোট হওয়ার কথা ছিল, সেটি পিছিয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম আগ্রহ কমে যেতে পারে। কিন্তু আজ দেখছি আগ্রহ একটুও কমেনি। কারণ এটা আমাদের সবার প্রথম ভোট।’
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তমা বলেন, ‘এটা আমার জীবনের প্রথম ভোট। অভিজ্ঞতাটা খুব ভালো ছিল। পরিবেশ সুন্দর। আশা করছি সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন শেষ হবে এবং আমরা একটি ভালো সংসদ পাবো।’
ভোটগ্রহণ শুরুর দিকে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে এখন পর্যন্ত পরিবেশ ভালো আছে। প্রশাসন এই পরিবেশ শেষ পর্যন্ত বজায় রাখবে বলে আশা করি। জয়–পরাজয় আল্লাহর হাতে। যেই জিতুক, আমরা সবাই জিতবো।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-পরিচালক এহেছান আহমেদ তামিম জানান, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় পর জকসু নির্বাচন হচ্ছে। আশা করছি, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট শেষ হবে।’
তবে ভোটগ্রহণ চলাকালে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির পরস্পরের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের অভিযোগ, নারী ভোটারকে হেনস্তা, ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে ছাত্রদল।
এ প্রসঙ্গে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আমরা শঙ্কিত। ভোট গণনার সময় সন্ত্রাসী কার্যক্রম হতে পারে, এমন আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারলে বড় সংঘাতের সম্ভাবনা আছে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে রাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ চাই।’
অন্যদিকে, ছাত্রশক্তি সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী ফয়সাল মুরাদ অভিযোগ করে বলেন, ‘জকসু নির্বাচন কমিশন বিএনপি ও জামায়াতের কাছে জিম্মি। অমোচনীয় কালি সহজেই মুছে যাচ্ছে। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সমর্থিত অনেকেই পর্যবেক্ষক কার্ড নিয়ে কেন্দ্রে ঢুকছে। আচরণবিধি লঙ্ঘন হলেও প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসের বাইরে দুই দলের লোকজন জড়ো হয়ে আছে। ভোট গণনায় কারচুপির আশঙ্কা রয়েছে।’
ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংকের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যায়ের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন বলেন, ‘নামসহ পরিচিত বই নিয়ে পোলিং এজেন্টরা কেন্দ্রে ঘুরছে, এটি স্পষ্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন। যারা এসব সরবরাহ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। কোনো পক্ষকে যেন বাড়তি সুবিধা দেয়া না হয়।’
নির্বাচনি তফসিল অনুযায়ী সকাল ৮টায় প্রার্থী ও পোলিং এজেন্টরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। ৮টা ৩০ মিনিটে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ব্যালট পেপার ও বাক্স কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।
সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছাত্রদল সমর্থিত এ কে এম রাকিব ও ছাত্রশিবির সমর্থিত রিয়াজুল ইসলাম।

















