জাবি প্রতিনিধি :
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে বিরূপ মন্তব্য এবং নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের (ছাত্রলীগ) সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের (শিক্ষাবর্ষ ২০২৪-২৫) ছাত্র শারাফাত শারিক, শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থীকে ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮’-এর ৪(১)(খ) ধারা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
পৃথক আরেক আদেশে জানানো হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে বিরূপ ও অনভিপ্রেত মন্তব্য, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ এবং এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণসহ অভিযোগের পূর্বাপর সব তথ্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিমকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান এবং আইসিটি সেলের সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. রেজাউল আলম। সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুছ ছাত্তার।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কমিটিকে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে সুস্পষ্ট সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এ ছাড়া বুধবার দিবাগত রাতে অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর আওতায় একটি মামলা দায়ের করেছে, আমরা সেটি রুজু করে অভিযুক্তকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছি এবং মামলাটির তদন্ত চলমান আছে।’


















