রবিবার , ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ১১ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খুলনা
  7. খেলাধুলা
  8. চট্রগ্রাম
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. ঢাকা
  12. তথ্য-প্রযুক্তি
  13. প্রবাসের কথা
  14. বরিশাল
  15. বিনোদন

বিএনপি সরকার গঠন করলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে: তারেক রহমান

প্রতিবেদক
Newsdesk
জানুয়ারি ২৫, ২০২৬ ১০:১২ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : 

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘দেশকে এগিয়ে নিতে বিএনপি যেসব পরিকল্পনা করছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে দুটি বিষয় অবশ্যই করতে হবে। মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। যারা অনৈতিক কাজে জড়িত তাদের ছাড় দেবো না। আমাদের দলের হলেও ছাড় দেওয়া হবে না। এছাড়া যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরতে হবে। বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন। দুর্নীতি যেই করুক, যারাই করুক- সবার ক্ষেত্রে আইন সমানভাবে প্রয়োগ করা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে এক নির্বাচনী মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি যৌথভাবে এই সমাবেশের আয়োজন করে।

তারেক জিয়া বিএনপিকে নিয়ে একটি ষড়যন্ত্র চলছে মন্তব্য করে এ নিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে দেশে যেসব পরিবর্তন আনার কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দিয়ে বিএনপি প্রার্থীদের জয়ী করার উদাত্ত আহ্বান জানান।

বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পেলে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে নানামুখী উন্নয়ন করার কথা সমাবেশে তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিএনপিই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করেছে।
তারেক রহমান সমাবেশে বলেন, বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা সরকারের সময়ে দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করেছে। আমরা দেশের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য সবসময় অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলাম। গত ১৬ বছর ধরে দেশের মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার, বাক্‌স্বাধীনতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। তাই, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন এসেছে পরিবর্তনের জন্য।
বাংলাদেশের মানুষ চায় নিরাপদ পরিবেশ, নিরাপদ চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সন্তানদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা সুবিধা। বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পেলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে বিএনপি।’

এ সময় তিনি দেশের তরুণ প্রজন্মকে সামনে রেখে বিএনপি এসব পরিকল্পনা তৈরি করা হয়ে বলেও জানান। তারেক রহমান বলেন, বিগত বিএনপি সরকারের সময় আমরা আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সফলভাবে কাজ করেছি এবং ভবিষ্যতেও একইভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এটি দেশের মানুষের অধিকার সুরক্ষায় অপরিহার্য। সমস্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিএনপিকে ভোট দিয়ে জয়ী করতে হবে।’

সমাবেশে তারেক রহমান প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর তেমন কোনো সমালোচনা না করে বলেন, প্রতিপক্ষ নিয়ে অনেক কথা বলতে পারি। কিন্তু বলবো না। এতে আমাদের কী উপকার হবে? মানুষের পেট ভরবে? ভরবে না। যেদিন দেশের মাটিতে পা রেখেছিলাম, সেদিন বলেছিলাম, দেশের তরুণ-যুবক কাজ চায়, কর্মসংস্থান চায়। নিরাপদ পরিবেশ চায়। চট্টগ্রামের মানুষও সেই পরিবেশ চায়।’

তরুণ প্রজন্মকে গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমানে জনসংখ্যার অর্ধেক তরুণ, যারা কর্মসংস্থান ও নিরাপদ জীবন চায়। আমরা চেষ্টা করছি দেশের মানুষের জীবনমান উন্নত করতে এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে। বিএনপি সরকারের সময়ে আমরা লক্ষ লক্ষ মানুষকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়েছি। চট্টগ্রামের ইপিজেডগুলো সেই কর্মসংস্থানের উদাহরণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্রে যারা বিশ্বাস করেন আপনাদের নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে আমরা কাজ করবো। এজন্য যারা জীবন দিয়েছেন তাদের স্বপ্ন আমরা বাস্তবায়ন করবো।’
তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে দেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছে। ২০২৪ সালে মানুষ সেই স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আন্দোলন করেছেন, প্রাণ দিয়েছেন। কারণ মানুষ আরেকটি পরিবর্তন চেয়েছিলেন। ২০২৪ সালে সেই ছাত্র-জনতা সেই পরিবর্তন করেছে।’

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে আরও বেশি ইপিজেড তৈরি করা হবে, যাতে যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় এবং ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে। এটাই দেশের পরিবর্তনের জন্য সত্যিকারের পথ।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশে জলাবদ্ধতা ও বন্যার সমস্যা দূর করতে আমরা খাল খনন কর্মসূচি শুরু করব। এটি দেশের নিরাপত্তা, জীবনমান এবং কৃষি-অর্থনীতি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে নাগরিকদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য দেশের মানুষকে একত্রিত হতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের ভোট ও সমর্থন দিয়ে বিএনপিকে সরকার গঠনে সক্ষম করতে হবে। তাহলে আমরা দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের এই পদক্ষেপগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবো।’

দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে মঞ্চে উঠেন তারেক রহমান। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। তিনিও তার জবাব দেন। এ সময় চট্টগ্রামের ভাষায় তিনি বলেন, ‘অন্যেরা কেন আছন?’ (আপনারা কেমন আছেন?) সমাবেশে প্রায় আধ ঘণ্টা বক্তব্য রাখেন তিনি।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব নাজিমুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৬ আসনের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, বিএনপি নেতা সুকোমল বড়ুয়া, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এসএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম-৭ আসনের প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৯ আসনের প্রার্থী আবু মুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের প্রার্থী সরোয়ার হামাল নিজাম, চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থী সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রামে-৪ আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরী, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, কক্সবাজার বিএনপি সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, খাগড়াছড়ি বিএনপির সভাপতি ওয়াজেদ ভুঁইয়া, বিএনপি নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোনায়েম মুন্না, বিএনপি নেতা দীপেন দেওয়ান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইদ্রিস মিয়া প্রমুখ।

সমাবেশে চট্টগ্রামের ১৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। এ সময় তিনি বলেন, ‘বিএনপি প্রার্থীদের ভোট দিলেই এলাকার উন্নয়ন নিয়ে তাদের কাছ থেকে জবাবদিহি চাইতে পারবেন।’

সকাল ৮টা থেকে সমাবেশে লোকজন আসতে শুরু করলেও সকাল সাড়ে ১০টায় সমাবেশ শুরু হয়। এতে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। বিএনপি নেতাকর্মীরা পলোগ্রাউন্ডের আশেপাশের এলাকায় গাড়ি রেখে বাদ্যবাজনা বাজিয়ে সমাবেশে যোগ দেন। সমাবেশ ও আশেপাশের এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়। মঞ্চের আশেপাশে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য। মঞ্চের এক পাশে গুম ও শহীদ পরিবারেরর সদস্যদের আলাদা করে বসানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সমাবেশে বৃহত্তর চট্টগ্রামের কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান জেলা থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশ ও আশেপাশের এলাকায় দুই শতাধিক মাইক স্থাপন করা হয়। মাঠের বাইরে অবস্থান করা লোকজন এসব মাইকের পাশে বসে তারেক রহমানের বক্তব্য শুনেন।

 

সর্বশেষ - রাজনীতি

আপনার জন্য নির্বাচিত