গাজীপুর প্রতিনিধি :
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগচালা এলাকায় গণপিটুনিতে তিন যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ২০০–২৫০ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেছে।
অন্যদিকে, তালচালা গ্রামের একটি ফার্মের মালিক আবু বক্কর বাদী হয়ে নিহত তিনজনসহ অজ্ঞাত ১০–১৫ জনের নামে চুরির চেষ্টার অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন।
এর আগে রোববার ভোরে গরু চুরির অভিযোগে স্থানীয় জনতা তিন যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে। এ সময় একটি পিকআপ ট্রাক আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয় তারা।
নিহতরা হলেন—সিলেট সদর থানার ঘাসিটোলার কমলা কান্ডর ছেলে কৃষণ (৪৬), গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা বদনী ভাংনা এলাকার শরাফত আলীর ছেলে আজহারুল ইসলাম (৩৬) এবং রাজধানীর মিরপুর মধ্যপীরেরবাগ এলাকার আব্দুল বারেকের ছেলে মো. সেলিম (৩৮)।
পুলিশ জানায়, এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ২০০–২৫০ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেছে। এই ঘটনায় নিহত তিনজনের লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পড়ে রয়েছে। পুলিশের দাবি, স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানায়, শনিবার দিবাগত মধ্যরাত সাড়ে তিনটার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের তালচালা এলাকায় আবু বক্করের নামের এক ব্যক্তির গরুর খামারে দুইটি ট্রাক নিয়ে ৭–৮ জনের একদল সংঘবদ্ধ চোর উপস্থিত ছিল। এসময় গরুর ঘর থেকে একটি গরু বের করে ট্রাকে তোলার চেষ্টা করা হয়। খামারের মালিকসহ আশপাশের লোকজন টের পেয়ে চোরদের আটক করতে চেষ্টা করলে তারা ট্রাক নিয়ে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা একটি মোটরসাইকেল দিয়ে ধাওয়া দিয়ে বাগচালা এলাকায় ট্রাকসহ তিনজনকে আটক করে।
চোর আটক হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে ভোরের দিকে শত শত গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে গণপিটুনি দিয়ে ট্রাক আগুন ধরিয়ে দেয়। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গণপিটুনির শিকার তিনজনকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের হওয়ায় পর কয়েকটি গ্রামের মানুষের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে গ্রেপ্তার এড়াতে এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে।
কালিয়াকৈর থানার ওসি সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয়দের গণপিটুনিতে নিহত তিনজনের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। নিহতের স্বজনরা এলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশগুলো স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে নিয়েছেন।’
তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত দুইশত থেকে আড়াই শতাধিক গ্রামবাসীর নামে একটি মামলা দায়ের করেছে। অপরদিকে, গ্রামবাসীর পক্ষে আবু বক্করও বাদী হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। দুইটি মামলার তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


















