স্পোর্টস ডেস্ক :
জিততে হলে ইতিহাস রচনা করতে হতো পাকিস্তানকে। গড়তে হতো চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। সেই লক্ষ্যে শুরুটা মন্দ ছিল না পাকিস্তানের। ঘুরে দাঁড়াতে সময় নেয়নি বাংলাদেশও। নাহিদ রানার পেস আগুনে যেনে চোখে সরষে ফুল দেখেছে পাকিস্তানি ব্যাটাররা। তাকে সঙ্গ দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ-তাইজুল ইসলামরা। এতে শেষটা রাঙিয়ে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।
আজ মঙ্গলবার (১২ মে) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চতুর্থ ইনিংসে ২৬৮ রানের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের সামনে। ৫২.৫ ওভারে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ১৬৩ রান তুলতে পেরেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ১০৪ রানের।
এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান করেছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস থেমেছিল ৩৮৬ রান। ২৭ রানের লিড নিয়ে খেলতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ২৪০ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ।
মিরপুরে এর আগে সর্বোচ্চ ২০৯ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ছিল ইংল্যান্ডের। ২০১০ সালে জিতেছিল তারা। আজ জিততে হলে সেই রেকর্ড ভাঙতে হতো পাকিস্তানকে। সেটি পারেনি মোহাম্মদ রিজওয়ান-শান মাসুদরা। দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে প্রথমটি জিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনের অর্ধকটাই গুড়িয়ে দিয়েছেন নাহিদ রানা। টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ফাইফার তুলে নিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগারও গড়েছেন নাহিদ। এর আগে ৬১ রানে ৫ উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি। আজ তিনি খরচ করেছেন ৪০ রান।
পঞ্চম দিনের মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই লক্ষ্য তাড়া করতে নামে পাকিস্তান। প্রথম ওভারেই পাকিস্তান শিবিরে আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। ফেরান ওপেনার ইমাম-উল-হককে। ৫ বলে ২ রান আসে এই ওপেনারের ব্যাট থেকে।
বিরতি থেকে ফিরে দ্বিতীয় উইকেটে অর্ধশত রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়াচ্ছিলেন আজান আওয়াইস আর আব্দুল্লাহ ফজল। আজানকে ফিরিয়ে ৫৪ রানের এই জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আগের ইনিংসে সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটার ফেরেন ৩৩ বলে ১৫ রান করে।
দুই ওভার পরই নতুন ব্যাটার শান মাসুদকে ফেরান নাহিদ রানা। টাইগার পেসারের গতিময় বল ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা গড়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে। ৫ বলে ২ রান করে বিদায় নেন শান।
একপ্রান্ত আগলে রেখে বাংলাদেশের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়ান আব্দুল্লাহ ফজল। হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। সালমান আলী আঘাকে সঙ্গে নিয়ে অর্ধশত রানের জুটি গড়েনে আব্দুল্লাহ। অভিষিক্ত এই ব্যাটারকে থামান তাইজুল ইসলাম। এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরান আগে ১১৩ বলে ৬৬ রান করেন আব্দুল্লাহ।
এরপর সালমানকেও আর বেশি সময় উইকেটে থাকতে দেননি তাসকিন আহমেদ। স্লিপে সাদমান আলীর ক্যাচ বানিয়ে ড্রেসিংরুমের পথ দেখান সালমানকে (৩৯ বলে ২৬)।
মোহাম্মদ রিজওয়ান আর সৌদ শাকিল ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়ে ড্রয়ের আভাস দিচ্ছিলেন। তবে জয়ের ক্ষুধা ছিল বাংলাদেশের। পরপর দুই ওভারে এই দুই ব্যাটারকে ফেরান নাহিদ।
৪৪তম ওভারে নাহিদের বলে পরাস্ত হয়ে উইকেটের পেছনে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন সৌদ শাকিল (৩২ বলে ১৫)।
পরের ওভারে এসে রিজওয়ানকে তো বোকা বানিয়েই ফেরত পাঠান নাহিদ। টাইগার পেসারের ভেতরে ঢোকা বল ছেড়ে দিয়েছিলেন রিজওয়ান। ভেবেছিলেন লেগ সাইড দিয়ে বের হয়ে যাবে। কিন্তু বল গিয়ে স্ট্যাম্প ভেঙে দেয়। ৪৬ বলে ১৫ রানে শেষ হয় রিজওয়ানের লড়াই।
রিজওয়ানের সঙ্গেই শেষ হয় পাকিস্তানের প্রতিরোধও। পরের তিন ব্যাটারকে ফেরাতে বাংলাদেশের লেগেছে আর পাঁচ ওভার। নোমান আলীকে (১৩ বলে ৪) এলবিডব্লিউয়ের শিকার বানিয়ে ফাইফারের আশা জাগান নাহিদ। হাসান আলীকে (৭ বলে ১) ফেরান তাইজুল।
শেষ ব্যাটার হিসেবে নাহিদের শিকার হন শাহিন শাহ আফ্রিদি। বাংলাদেশের পেস সেনসেশনের গতিময় বাউন্সার শাহিনের গ্লাভসে লেগে জমা হয় লিটনের হাতে। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি শাহিন। তাকে ফিরিয়ে ফাইফার পূর্ণ করেন নাহিদ।
এর আগে ৭০.৩ ওভারে ৯ উইকেটে ২৪০ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের ২৭ রানের লিড মিলিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৬৭।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ১১৭.১ ওভারে ৪১৩/১০
পাকিস্তান প্রথম ইনিংস : ১০০.৩ ওভারে ৩৮৬/১০
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস : ৫০.৩ ওভারে ১৫২/৩ (ইনিংস ঘোষণা) (জয় ৫, সাদমান ১০, মুমিনুল ৫৬, শান্ত ৮৭, মুশফিক ২২, লিটন ১১, মিরাজ ২৪, তাইজুল ৩, তাসকিন ১১, এবাদত ৪*; শাহিন ১৬-২-৫৪-২, আব্বাস ১৪-৩-৩৫-১, হাসান ১৭.৩-২-৫২-৩, সালমান ৫-০-১৮-০, নোমান ১৮-১-৭৬-৩)
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস : ৫২.৫ ওভারে ১৬৩/১০ (আজান ১৫, ইমাম ২, আব্দুল্লাহ ৬৬, শান ২, সালমান ২৬, সৌদ শাকিল ১৫, রিজওয়ান ১৫, নোমান ৪, হাসান ১, শাহিন ০, আবআস ৫*; তাসকিন ১০-১-৪০-২, মিরাজ ১৭-৩-৪৭-১, নাহিদ ৯.৫-২-৪০-৫, এবাদত ২-০-৯-০, তাইজুল ১৪-৩-২২-২)
ফলাফল : বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী।
সিরিজ : দুই ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে।


















