বরিশাল প্রতিনিধি :
বরিশালে দায়ের হওয়া একটি মামলায় আসামির তালিকায় চারজন মৃত ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া এবং অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, তালিকাভুক্ত চার ব্যক্তি মামলার অনেক আগেই মারা গেছেন। এরপরও তাদের নাম আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় মামলাটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এমন ভুল তদন্ত ও মামলা গ্রহণের ক্ষেত্রে গাফিলতির ইঙ্গিত বহন করে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বরিশালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ২৪৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মারজুক আব্দুল্লাহ নামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এক নেতা। তালিকায় মধ্যে চারজন মৃত ব্যক্তির নামও রয়েছে। বিচারক এস এম শরীয়ত উল্লাহ অভিযোগ আমলে নিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনারকে তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন। জানা গেছে, আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সড়ক অবরোধ ও মিছিল করছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতারা। ঠেকাতে গেলে ছুঁড়েছেন ককটেল ও পেট্রল বোমা। এতে বিঘ্নিত হয়েছে দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা। এসব অভিযোগ মামলা করা হয়েছে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার জানিয়েছেন, এ নালিশী মামলায় অস্ত্র, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও হত্যার হুমকিসহ বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে আসামির তালিকায় চারজন মৃত ব্যক্তির নাম যুক্ত করায় অভিযোগের সত্যতা ও মামলার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মামলার আসামির তালিকায় আছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, সাবেক এমপি জেবুন্নেছা আফরোজ, বরিশাল জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর, সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র জিয়াউর রহমান বিপ্লব এবং রফিকুল ইসলাম খোকন। আরও আছে ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি খন্দকার রেজাউর রহমান রেজা, ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবুল ফারুক হুমায়ুন, ২২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এইচ এম হাফিজুর রশিদ শিবলী ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী হাওলাদারের নাম। এর মধ্যে ২১২ নম্বর আসামি খন্দকার রেজাউর মারা গেছেন ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি।
মামলার ১৯৮ নম্বর আসামি আবুল ফারুকের মৃত্যু হয়েছে ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ। ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর মারা যান ২২৫ নম্বর আসামি হাফিজুর রশিদ এবং একই বছরের ২৬ জুলাই মারা যান ১৯৫ নম্বর আসামি আলী হাওলাদার।
বরিশাল সিটির ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রাজীব হোসেন খান বলেছেন, ‘মারজুক নামের যে ব্যক্তি মামলাটি করেছেন তাকে বরিশালের সবাই মামলা ব্যবসায়ী বলে চেনেন। আগেও তিনি মামলা করেছিলেন। এ মামলা যে ভুয়া সেটার বড় প্রমাণ আসামির মধ্যে চারজন মৃত।
এসব বিষয়ে মামলার বাদী বরিশাল নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ক্লাব রোডের বাসিন্দা মারজুক আব্দুল্লাহক বলেন, ‘রেজা নামে যে ব্যক্তির নাম দেওয়া হয়েছে মামলার আসামি হিসেবে, সেটা সাক্ষীদের ভুলের কারণে এসেছে। বাকি তিনজনের বিষয় আমি কিছু জানি না। সাক্ষীদের ভুল ইনফরমেশনের কারণে এমনটা হয়েছে।’


















