নিজস্ব প্রতিবেদক :
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমীর আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিতে এসে ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকে অপহৃত হন পিরোজপুরের সুখরঞ্জন বালী। এই ঘটনায় মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ও সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফজলুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। ট্রাইব্যুনালের সিনিয়র প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম এবং ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) সাংবাদিকদের কাছে এই চাঞ্চল্যকর গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণী ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য সুদূর পিরোজপুর থেকে ঢাকার সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসেছিলেন সুখরঞ্জন বালী। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের মূল ফটকের সামনে থেকেই তৎকালীন সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একদল সদস্য তাকে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
এরপর দীর্ঘ দিন তার কোনো খোঁজ মেলেনি। পরবর্তীতে জানা যায়, সুকৌশলে সীমান্ত পার করে তাকে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে পুশইন করা হয়েছিল। অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতের একটি আদালতে সাজা পেয়ে দীর্ঘ পাঁচ বছর তাকে কলকাতার দমদমসহ বিভিন্ন কারাগারে বন্দিজীবন কাটাতে হয়। সাজা ভোগ শেষে দেশে ফিরে তিনি এই লোমহর্ষক রাষ্ট্রীয় অপহরণের বিশদ বর্ণনা দেন।
পরবর্তীতে প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলে, গত ২০২৫ সনের ২২ আগস্ট ভুক্তভোগী সুখরঞ্জন বালী নিজেই বাদী হয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। ওই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহাসহ তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী, গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় ৩২ জনকে আসামি করা হয়।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে একজন সাক্ষীকে অপহরণের ঘটনাটি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার ওপর এক চরম আঘাত ছিল। এই মামলার সুনির্দিষ্ট তদন্ত ও এজাহার নামীয় আসামিদের তালিকায় সম্পৃক্ততার অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতেই এএসপি ফজলুর রহমানকে গ্রফতার করা হয়েছে। আসামিকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে। আইন অনুযায়ী এই অপহরণ চক্রে জড়িত বাকি অপরাধীদেরও খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


















