অপরাধচিত্র ডেস্ক: সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শারজাহ থেকে করাচি যাওয়ার পথে কে২ এয়ারওয়েজের মালবাহী বোয়িং ৭৩৭-৪০০ একটি উড়োজাহাজ নিখোঁজ হয়ে গেছে। ৭ জুন মঙ্গলবার গভীর রাতে করাচি থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পশ্চিমে আরব সাগরের ওপর রাডার থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় মালবাহী উড়োজাহাজটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানি আকাশসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোর পর করাচি থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পশ্চিমে উড়োজাহাজটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ফ্লাইটের সময় পাইলট একটি নেভিগেশন (পথনির্দেশক) সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন এবং এরিয়া কন্ট্রোল সেন্টারের কাছে (এসিসি) সহায়তা চেয়েছিলেন।
কে২ এয়ারওয়েজ করাচিভিত্তিক একটি বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা। সরকার থেকে এয়ারলাইন চার্টার লাইসেন্স পাওয়ার পর ২০১৮ সালের মে মাসে এই উড়োজাহাজ সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (পিএএ) জানিয়েছে, উড়োজাহাজে পাঁচজন ক্রু ছিলেন। শারজাহ থেকে করাচিগামী কে২ এয়ারওয়েজের বোয়িং ৭৩৭ পাকিস্তান কার্গো ফ্লাইটটি রাত ৯টা ১৮ মিনিটে নেভিগেশনাল সিস্টেমে সমস্যার কথা জানিয়েছিল। এরপরই করাচি এরিয়া কন্ট্রোল সেন্টার (এসিসি) তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নির্দেশনা দেয়।
তবে রাত ৯টা ২১ মিনিটে রাডারে দেখা যায়, উড়োজাহাজটি ‘খুব দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে’ এবং হঠাৎ করে তার দিক পরিবর্তন করছে। এর পরপরই করাচি থেকে প্রায় ২৮৭ কিলোমিটার পশ্চিমে ‘রাডার যোগাযোগ ও সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।’
ফ্লাইট-ট্র্যাকিং সেবা সংস্থা ‘ফ্লাইটরাডার’ জানিয়েছে, প্রাথমিক এডিএস-বি ডেটা থেকে দেখা গেছে উড়োজাহাজটি প্রথমে উচ্চতা হারায়। এরপর আবার কিছুটা ওপরে ওঠে। তারপর আবার হঠাৎ করে নাটকীয়ভাবে নিচে নেমে যায়।
ফ্লাইটরাডার আরও যোগ করেছে, উড়োজাহাজ থেকে সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ১০০ ফুট ওপরে ছিল এবং এর ‘ভার্টিকাল রেট (নিচে নামার গতি) ছিল প্রতি মিনিটে মাইনাস ২২ হাজার ৪০০ ফুট’।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থাগুলোর মতে, উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই ওই অঞ্চলের অন্যান্য উড়োজাহাজের মতোই জিএনএসএস ইন্টারফারেন্স বা সিগন্যালবিভ্রাটের মুখে পড়ে। ফলে শারজাহর কাছাকাছি এলাকায় এর নেভিগেশন ডেটা (পথনির্দেশক তথ্য) দুর্বল হয়ে পড়েছিল।
উড়োজাহাজটি যখন জিএনএসএস সিগন্যালবিভ্রাট থেকে বের হয়ে আসে, তখন ফ্লাইটরাডার২৪ আবারও এর এডিএস-বি তথ্য পেতে শুরু করে।
এ ঘটনার পর উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্রকে সক্রিয় করা হয়েছে। নিখোঁজ উড়োজাহাজটির খোঁজে বিভিন্ন সংস্থার অংশগ্রহণে সমুদ্রে একটি সমন্বিত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে।
ব্যুরো অব এয়ার সেফটি ইনভেস্টিগেশন এ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করবে।
ফ্লাইটরাডারের তথ্য অনুযায়ী, এপি-বিওআই নিবন্ধিত উড়োজাহাজটি হচ্ছে বোয়িং ৭৩৭-৪এম০ (বিডিএসএফ), যা ২০২৪ সালে কে২ এয়ারওয়েজের বহরে যুক্ত হয়েছিল।
এই উড়োজাহাজ মূলত ১৯৯৯ সালে একটি যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে অ্যারোফ্লট-এ যুক্ত হয়েছিল। এরপর ২০০৪ সালে গারুডা ইন্দোনেশিয়াযর বহরে যুক্ত হয়। এটিকে ২০১২ সালে মালবাহী উড়োজাহাজে রূপান্তর করা হয়। পরবর্তী সময়ে এটি টিএনটি এয়ারওয়েজ ও এএসএল এয়ারলাইসের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল।

















