আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
এবার কুয়েত, বাহরাইন এবং জর্ডানের ভূখণ্ডে একযোগে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। শনিবার (১৮ জুলাই) ভোররাত থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চরম যুদ্ধাবস্থা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। হামলার পর বাহরাইন ও কুয়েতজুড়ে একের পর এক সতর্কীকরণ সাইরেন বেজে চলেছে।
শনিবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বাহরাইনজুড়ে চার চারবার বিমান হামলার জরুরি সাইরেন বাজানো হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার এবং দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ইরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান।
ইরানি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক দাম্ভিকতার অপরাধের জবাবে বাহরাইনের কৌশলগত শেখ ঈসা বিমান ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মার্কিন ঘাঁটির উড়োজাহাজ হ্যাংগার, বিমান পার্কিং লট, জ্বালানি ট্যাংক এবং বেশ কয়েকটি যোগাযোগ সেতুতে সরাসরি আঘাত হেনেছে।
ইরান দাবি করেছে, এই ঘাঁটিটি ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনী তাদের দেশসহ আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাত। নিজেদের মাতৃভূমি রক্ষায় এই দায়িত্ব পালন করতে পেরে তারা গর্বিত বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে ইরানি বাহিনী।
এদিকে শনিবার ভোরে জর্ডানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ঢুকে পড়া ১০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশে ধ্বংস করে দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। জর্ডানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল।
স্ট্যান্ডার্ড প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা মেনে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্রই ভূপাতিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় জর্ডানের কোথাও কোনো হতাহত বা বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে রয়্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স ইউনিটের সদস্যরা ইতিমধ্যে ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ অপসারণ ও এলাকা সুরক্ষিত করার কাজ শুরু করেছে।
অন্যদিকে কুয়েতের আকাশেও ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হেনেছে। কুয়েতি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তারা দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের এই বৈরী হামলার মুখোমুখি হয়েছে। তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুর হামলা রুখে দিতে কাজ করছে। হামালার পর কুয়েতজুড়ে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
তবে তা মূলত দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কর্তৃক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার শব্দ বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির সামরিক বাহিনী সাধারণ জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সরকারের দেওয়া নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা

















