আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ, তার ভাই মাহের আল-আসাদ এবং মামাতো ভাই আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে সংঘটিত নানা অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাদের এই সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হলো।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দামেস্কের একটি ফৌজদারি আদালত এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
মামলার রায় বিবরণী অনুযায়ী, বাশার আল-আসাদকে পরিকল্পিত হত্যা, নির্যাতন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে অনুপস্থিতিতেই (ইন অ্যাবসেন্টেশিয়া) মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে এক গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আসাদ বর্তমানে রাশিয়ায় নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন।
একই মামলায় রাশিয়ায় অবস্থানরত আসাদের ছোট ভাই মাহের আল-আসাদকেও পরিকল্পিত হত্যা ও চরম নির্যাতনের দায়ে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশের সাবেক রাজনৈতিক নিরাপত্তা প্রধান এবং আসাদের মামাতো ভাই আতেফ নাজিবকে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারিতে সিরিয়ার বর্তমান কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করে।
অন্যদিকে, আসাদ আমলের প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশের সাবেক রাজনৈতিক নিরাপত্তা প্রধান আতেফ নাজিবকে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য সরাসরি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারিতে সিরিয়ার বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল।
২০১১ সালে দারা প্রদেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্মম দমন-পীড়ন চালিয়েছিলেন নাজিব। সেই ঘটনাই পরবর্তীতে দেশজুড়ে গণঅভ্যুত্থান এবং পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। আদালতের বিচারক যখন রায় ঘোষণা করছিলেন, তখন নাজিব আসামির কাঠগড়ায় বন্দীর পোশাক পরে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে হত্যা, ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের পরিকল্পিত হত্যা এবং নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।
সাবেক আসাদ সরকারের হেভিওয়েট নেতাদের বিচারে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের অধীনে এটিই প্রথম কোনো উচ্চপর্যায়ের রায়।
আদালতে দেওয়া বক্তব্যে বিচারক আল-আরিয়ান জানান, সাক্ষীদের জবানবন্দিতে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে সাবেক সিরীয় শাসক বাশার আল-আসাদই ছিলেন এসব অপরাধের ‘প্রধান নীতি-নির্ধারক’। তিনি এসব অপরাধ বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেছিলেন।
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি ওবায়দা হিত্তো জানান, আজকের এই রায় সাধারণ সিরিয়ানদের মনে বিশাল স্বস্তি এনে দেবে এবং তাদের দীর্ঘদিনের ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করবে।
হিত্তো বলেন, “এই দিনটির জন্য তারা বহু বছর ধরে অপেক্ষা করছিল। যেসব অপরাধী তাদের সন্তানদের নির্যাতন করেছে, ভিটামাটি থেকে উচ্ছেদ করেছে এবং দেশকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে- জনগণ তাদের উপযুক্ত বিচার ও শাস্তি দেখতে চায়।”
তিনি আরো উল্লেখ করেন, এই রায়টি আসাদ আমলের অন্যান্য অপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রেও একটি শক্ত আইনি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
আল-জাজিরার আরেক প্রতিনিধি ওসামা বিন জাভেদ জানান, “সিরিয়াজুড়ে মানুষ কেবল বাশার আল-আসাদের শাস্তিই নয়, বরং মাঠপর্যায়ে যারা হত্যা-নির্যাতন চালিয়েছিল, সেই নির্দেশ বাস্তবায়নকারীদেরও বিচার দেখতে চায়।”
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

















