মিজানুর রহমান, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি: ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় সরকারি খালের জায়গা দখল করে মুরগির খামার গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতা মুন্নু মাতুব্বরের বিরুদ্ধে। খামার থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারি জলাশয়ের জায়গা দখলের অভিযোগের পাশাপাশি খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিবেশ দূষণের বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।তাঁদের দাবি বিষয়টি তদন্ত করে সরকারি খালের জায়গা উদ্ধারের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
দুর্গন্ধে ভোগান্তিতে স্থানীয় বাসিন্দারা:
স্থানীয়দের অভিযোগ, মুরগির খামার থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধের কারণে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। খামারের বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করা না হলে তা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বসতবাড়ি ও জনবসতিপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি খামার থাকলে দুর্গন্ধের কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এলাকাবাসীর মতে, বাণিজ্যিকভাবে মুরগির খামার পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং আশপাশের মানুষের স্বাস্থ্য ও বসবাসের পরিবেশের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। খামারের বর্জ্য কোথায় ফেলা হচ্ছে, দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরিবেশগত বিধিবিধান অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা উচিত।
সরকারি খালের জায়গা দখলের অভিযোগ:
সরকারি খালের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, খামারটি যে জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে, সেই জমির প্রকৃত মালিকানা, খতিয়ান, দাগ নম্বর ও সরকারি রেকর্ড যাচাই করা হোক। জমিটি সরকারি খালের অন্তর্ভুক্ত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
খাল পানি নিষ্কাশন ও বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি প্রবাহিত হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পথ। কোনো কারণে খালের জায়গা সংকুচিত হলে কিংবা পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে তার প্রভাব আশপাশের মানুষের ওপর পড়তে পারে। এ কারণে সরকারি খালের সীমানা নির্ধারণ এবং অবৈধ দখলের অভিযোগ যাচাই করা জরুরি।

তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের রেকর্ড, খালের সীমানা নির্ধারণসংক্রান্ত নথি এবং সরেজমিন তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের ভিত্তিতে জমিটিকে সরকারি খালের জায়গা হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করার আগে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা দরকার।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা:
এলাকাবাসীর দাবি, নগরকান্দা উপজেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্তৃপক্ষ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করুন। সরকারি খালের জায়গা দখলের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি খামারটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত প্রভাবও পরীক্ষা করা হোক।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, সরকারি জমি উদ্ধারের উদ্যোগ এবং দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে খামার পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিও যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য:
সরকারি খালের জায়গা দখল করে মুরগির খামার গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতা মুন্নু মাতুব্বরের বিরুদ্ধে। তবে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, খামারের জমির মালিকানাসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আরও পূর্ণাঙ্গ হবে। নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে অভিযুক্তের বক্তব্য নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা জরুরি।
তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর:
সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও জনদুর্ভোগ নিরসনে অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
এখন দেখার বিষয়, সরকারি খালের জায়গা দখলের অভিযোগের সত্যতা যাচাই, পরিবেশদূষণের বিষয়টি পরীক্ষা এবং এলাকাবাসীর ভোগান্তি নিরসনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়।


















