Tuesday , 20 October 2026 |
শিরোনাম:

নাটোরে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা-মেয়ের মৃত্যু, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন মা-ছেলে

টেকনাফে পৃথক অভিযানে আনুমানিক ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের ৪ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৪

আইডিইবির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হলেন প্রকৌশলী রেজা

শরণখোলায় ভাড়া বাসায় প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ, নিখোঁজ সঙ্গে থাকা ব্যক্তি

প্রবাসীর বাড়ির প্রবেশপথে বেড়া দেওয়ায় চলাচল বন্ধ : অভিযোগ জামায়াত নেতা আবদুল হাই শিকদারের বিরুদ্ধে

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

অস্ত্রকাণ্ডে ইশরাকের পদত্যাগের ঘোষণা : বললেন ‘সিটি নির্বাচনে অংশ নেব, প্রতিটি ওয়ার্ডে কাজ শুরু করব’

  1. অনিয়ন ও দুর্নীতি
  2. অপরাধ
  3. অপরাধচিত্র বিশেষ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন-আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. কক্সবাজার
  8. কিশোরগঞ্জ
  9. কুড়িগ্রাম
  10. কুমিল্লা
  11. কুষ্টিয়া
  12. কৃষি ও প্রকৃতি
  13. ক্রীড়াঙ্গন
  14. খুলনা
  15. খেলাধুলা

নাটোরে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা-মেয়ের মৃত্যু, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন মা-ছেলে

প্রতিবেদক
Newsdesk
October 20, 2026 11:00 pm

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে শোকের মাতম, স্বামী-কন্যার মৃত্যুর খবর জানেন না গুরুতর আহত রুবিনা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: নাটোরের বনপাড়ায় যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষে ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম ও তাঁর আট বছর বয়সী শিশুকন্যা তাসফিয়ার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শহিদুল ইসলামের স্ত্রী রুবিনা বেগম ও তাঁদের ১২ বছর বয়সী ছেলে লাবিব গুরুতর আহত হয়েছেন, তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পূজার ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাজশাহীতে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন শহিদুল ইসলাম। কিন্তু আনন্দভ্রমণ শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছে এক হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে। স্বামী ও ছোট মেয়েকে হারিয়ে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অন্যদিকে, গুরুতর আহত রুবিনা বেগম এখনো স্বামী ও মেয়ের মৃত্যুর খবর জানেন না।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সর্বশেষ প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৪ জন নিহত এবং অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন।

যেভাবে দুর্ঘটনার শিকার হয় পরিবারটি

নিহত শহিদুল ইসলাম পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি মাগুরা জেলায় ব্র্যাক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর স্ত্রী রুবিনা বেগম সুবিদখালী পূবালী ব্যাংক শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, পূজার ছুটিতে রাজশাহীতে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা।

সোমবার বিকেলে বরগুনা থেকে ছেড়ে আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী আরপি পরিবহনের একটি বাসে দুই সন্তানকে নিয়ে রওনা হন রুবিনা বেগম। অন্যদিকে, কর্মস্থল মাগুরা থেকে বাসটিতে ওঠেন শহিদুল ইসলাম। এরপর পরিবারের সবাই একসঙ্গে রাজশাহীর উদ্দেশে যাত্রা করেন।

পথিমধ্যে মঙ্গলবার ভোরে বনপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটির বেশ কয়েকজন যাত্রী হতাহত হন। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান শহিদুল ইসলাম ও তাঁর শিশুকন্যা তাসফিয়া।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালান। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। গুরুতর আহত রুবিনা বেগম ও ছেলে লাবিবকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে মাও ছেলেকে ঢাকা নিউরোসায়েন্সস হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

‘সবাই মিলে বেড়াতে যাচ্ছিল, দুর্ঘটনায় সব শেষ’

শহিদুল ইসলামের বড় ভাই মো. ফারুক হোসেনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, পূজার ছুটিতে পরিবারের সবাই মিলে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সেই আনন্দঘন যাত্রাই মুহূর্তের মধ্যে কেড়ে নেয় তাঁর ভাই ও ভাতিজির প্রাণ।

স্বজনদের ভাষ্য,

পরিবারের সবাই মিলে ছুটি কাটানোর যে পরিকল্পনা করেছিলেন, তা আর পূরণ হলো না। দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুজনের মৃত্যু এবং অপর দুজনের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে চলছে আহাজারি।

মির্জাগঞ্জে শোকের ছায়া

শহিদুল ইসলাম ও তাঁর মেয়ের মৃত্যুর খবর পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পৌঁছানোর পর স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। পরিবারের দুই সদস্যকে একসঙ্গে হারানোর ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক।
একদিকে স্বামী ও শিশুকন্যার মরদেহ বাড়িতে ফেরার অপেক্ষা, অন্যদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্ত্রী ও ছেলের জীবন নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে পরিবারটির ওপর নেমে এসেছে এক অসহনীয় বিপর্যয়।

দুর্ঘটনায় নিহত ১৪, আহত অন্তত ২৫ থেকে ৩০

মঙ্গলবার ভোরে বনপাড়া এলাকায় বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নয়জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও পাঁচজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪ জনে। আহতদের নাটোর ও রাজশাহীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে বাবা ও মেয়ের লাশ তাদের গ্রামের বাড়িতে পৌছেছে, আগামি কাল সকাল ১০ ঘটিকায় মির্জাগঞ্জ হযরত ইয়ার উদ্দিন খলিফা (রঃ) এর মাজার মসজিদ প্রঙ্গনে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে মহাসড়কে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

সর্বশেষ - জেলার খবর