অপরাধচিত্র রিপোর্ট: খুলনায় লংমার্চে অংশ নিয়ে সাতক্ষীরায় ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে জামায়াত–শিবিরের নেতাকর্মীদের বহনকারী একটি বাস। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার কুমিরা ইউনিয়নের মির্জাপুর বাজারসংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আব্দুল খালেক নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বাসে থাকা অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা থেকে লংমার্চে অংশগ্রহণ শেষে সাতক্ষীরায় ফিরছিলেন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। পথে মির্জাপুর বাজারসংলগ্ন এলাকায় সড়ক পারাপারের সময় আব্দুল খালেককে বাঁচাতে গিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। পরে বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা আহত হন।
অন্যদিকে, সাতক্ষীরা থেকে ঢাকাগামী ইমাদ পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় আব্দুল খালেকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জেল হোসেন। নিহত আব্দুল খালেক পাটকেলঘাটা থানার খলিষখালী ইউনিয়নের কাশেডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আব্দুল খালেক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অস্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেন। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘খালেক পাগল’ নামে পরিচিত ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে পাঠান। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। তবে আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ও তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম মুকুল এবং পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জেল হোসেন।
দুর্ঘটনা ঘিরে প্রশ্ন
লংমার্চে অংশগ্রহণ শেষে নেতাকর্মীদের বহনকারী বাসটি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় পড়ায় রাজনৈতিক কর্মসূচির নিরাপত্তা ও সড়কে যাত্রী চলাচলের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। লংমার্চ থেকে ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা না ঘটলে বাসের যাত্রীরা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতেন না। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, বাসের গতিবেগ এবং চালকের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।


















