আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান চরম সংঘাতের এক অভাবনীয় মোড় হিসেবে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং অঞ্চলটি একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পরপরই ইরানজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই ঘটনাকে “মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা” হিসেবে অভিহিত করেছেন। এদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কঠোর প্রতিশোধের অঙ্গীকার করেছে। ইতিমধেই কাতার, বাহরাইন, কুয়েত এবং ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরান একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্ব নেতাদের প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে খামেনিকে “ইতিহাসের অন্যতম ক্ষতিকর ব্যক্তি” হিসেবে উল্লেখ করে এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও সামরিক বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, “যারা ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, তারা নিজেরাই ধ্বংস হয়েছে।”
রাশিয়া ও চীন: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই হত্যাকাণ্ডকে “আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন” এবং একটি “নৃশংস হত্যাকাণ্ড” বলে নিন্দা জানিয়েছেন। চীনও এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, এটি ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর বড় আঘাত এবং অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য: ইইউ-এর পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কালাস এই ঘটনাকে ইরানের ইতিহাসে একটি “নির্ণায়ক মুহূর্ত” হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং সব পক্ষকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলি বলেছেন, খামেনির মৃত্যুতে “কেউ শোক প্রকাশ করবে না।”
আঞ্চলিক প্রভাব
হামাস ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে “মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের জঘন্যতম উদাহরণ” হিসেবে বর্ণনা করেছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় জর্ডান ও সৌদি আরবসহ অঞ্চলের বেশ কিছু দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (GCC) আজ রোববার এক জরুরি বৈঠকে বসছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনির শূন্যতা ইরানে এক বিশাল ক্ষমতার সংকট তৈরি করতে পারে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পতন আশা করলেও, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে এই ঘটনার ফলে ইরানে আরও চরমপন্থী ও আক্রমণাত্মক নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বিশেষ করে তেলের বাজারে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
বর্তমানে তেহরানের রাজপথে হাজার হাজার মানুষ শোক মিছিলে অংশ নিচ্ছেন এবং বিশ্ববাসী গভীর উদ্বেগের সাথে পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।

















