Tuesday , 21 July 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কুমিল্লা
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. খুলনা
  9. খেলাধুলা
  10. গাইবান্ধা
  11. গাজীপুর
  12. চট্রগ্রাম
  13. চুয়াডাঙ্গা
  14. জাতীয়
  15. জেলার খবর

সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দিল ট্রাম্প প্রশাসন

প্রতিবেদক
Newsdesk
July 21, 2026 11:07 am

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সৌদি আরবের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ (নিউক্লিয়ার এনরিচমেন্ট) প্রকল্পে সবুজ সংকেত দিয়েছে। তবে পারমাণবিক বোমা তৈরির সম্ভাবনা ঠেকাতে কোনো সুরক্ষাব্যবস্থা (সেফগার্ড) রাখা হয়নি বলে শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

সংবাদমাধ্যমটির হাতে আসা খসড়া চুক্তির নথি অনুযায়ী, রিয়াদের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে ওয়াশিংটনের সমর্থন এখনও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা গত অক্টোবরেই শেষ হয়েছে।

প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়, বাধ্যতামূলক ‘১২৩ চুক্তি (123 Agreement)’ এবং সুরক্ষাবিষয়ক প্রোটোকলসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এখনও কংগ্রেসে পাঠানো হয়নি। কর্মকর্তাদের ধারণা, দ্বিদলীয় (বাইপার্টিজান) বিরোধিতার আশঙ্কায়ই সম্ভবত এগুলো পাঠানো হচ্ছে না। ট্রাম্প আর কতদিন অপেক্ষা করবেন, তা স্পষ্ট নয়। কারণ, নভেম্বরের নির্বাচনের পর কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, যা তার নীতিগত এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং তার উপদেষ্টারা দীর্ঘদিন ধরেই এমন একটি চুক্তির পক্ষে চাপ দিয়ে আসছেন, যা সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেবে। তাদের দাবি, দেশটিতে ইউরেনিয়ামের বিপুল মজুত রয়েছে। গত বছর সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান বলেছিলেন, ‘আমরা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করব, আমরা তা বিক্রি করব এবং আমরা ইয়েলোকেক উৎপাদন করব।’ ইয়েলোকেক বলতে খনি থেকে ইউরেনিয়াম উত্তোলনের পর কিন্তু সমৃদ্ধকরণের আগের ধাপের একটি প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়।

সৌদি যুবরাজের গত বছরের নভেম্বরে হোয়াইট হাউস সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নিউক্লিয়ার আমব্রেলা বা পারমাণবিক সুরক্ষা ছাতার আওতায় সৌদি আরবকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি ছিল অন্যতম প্রধান আলোচ্য। এর আগে, বছরের শুরুতে কাতারে হামাসের আলোচক দলের ওপর ইসরায়েল হামলা চালানোর কয়েক দিনের মধ্যেই সৌদি আরব পাকিস্তানের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র।

ধারণা করা হয়, পাকিস্তানের কাছে প্রায় ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। সৌদি আরব ও পাকিস্তান উভয় দেশই জানিয়েছিল, তাদের এই চুক্তিতে সামরিক সহযোগিতার সব ধরনের বিকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক আলোচনা কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে রাখা হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে যুক্তরাষ্ট্রের এক সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা আগে বলেছিলেন, সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সুরক্ষার আওতায় আনার ধারণার একটি কৌশলগত উদ্দেশ্য রয়েছে। তিনি বলেছিলেন, ‘এর ফলে সৌদি আরব পাকিস্তানের পারমাণবিক ছাতার বাইরে চলে আসবে এবং সৌদিরা নিজেদের কাতারের চেয়েও নিরাপদ মনে করবে।’

গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে জানায়, তারা সৌদি আরবের সঙ্গে একটি বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তির পথে এগোচ্ছে, যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ রোধে যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহ্যগতভাবে যেসব বিস্তাররোধী (নন-প্রলিফারেশন) সুরক্ষাব্যবস্থা আরোপ করে, সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তির ভাষায় সৌদি আরবের ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগও খোলা রাখা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক সহযোগিতার সবচেয়ে সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলোতে, যার মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ (রিপ্রসেসিং) অন্তর্ভুক্ত, সেখানে ‘অতিরিক্ত সুরক্ষাব্যবস্থা ও যাচাই-বাছাইয়ের ব্যবস্থা’ প্রয়োগ করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা থেকে স্পষ্টভাবে বিরত না রেখে যদি এই পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন হয়, তবে সেটি ট্রাম্প প্রশাসনের সৌদি আরবকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির পৃথক উদ্যোগের চেয়েও মধ্যপ্রাচ্যের জন্য অনেক বেশি যুগান্তকারী পরিবর্তন ডেকে আনতে পারে। অন্য রাষ্ট্রের সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী পারমাণবিক চুক্তিগুলোতে, যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ক্ষেত্রে, পারমাণবিক সহযোগিতার শর্ত হিসেবে দেশটিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ না করা এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ না করার অঙ্গীকার করতে হয়েছিল।

ইউএই, মরক্কো এবং ইউরোপ ও এশিয়ার কয়েক ডজন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তথাকথিত ‘১২৩ চুক্তি (123 Agreements)’ স্বাক্ষর করেছে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো দেশে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পারমাণবিক উপাদান বা সরঞ্জাম রপ্তানির লাইসেন্স দেওয়ার আগে সাধারণত একটি ১২৩ চুক্তি কার্যকর থাকা বাধ্যতামূলক। ১২৩ চুক্তির পাশাপাশি, মার্কিন আইনপ্রণেতারা দীর্ঘদিন ধরে জোর দিয়ে আসছেন যে সৌদি আরবকে ‘অ্যাডিশনাল প্রোটোকল’ মেনে নিতে হবে। এই প্রোটোকল অনুযায়ী, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) সৌদি আরবের পারমাণবিক স্থাপনা, তথ্য এবং ঘোষণাবহির্ভূত স্থানে অতিরিক্ত প্রবেশাধিকার ও পরিদর্শনের সুযোগ পাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক জ্বালানি খাতে অংশীদার হওয়া উপসাগরীয় একমাত্র দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০০৯ সালে আইএইএর সঙ্গে তাদের চুক্তির অংশ হিসেবে অ্যাডিশনাল প্রোটোকলে স্বাক্ষর করেছিল। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন গত নভেম্বরে কংগ্রেসের কয়েকটি কমিটির প্রধানের কাছে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন পাঠিয়েছিল। যদি প্রশাসন অ্যাডিশনাল প্রোটোকল অনুসরণের পথে না যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী এমন প্রতিবেদন পাঠানো বাধ্যতামূলক।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাঁর কূটনীতির কেন্দ্রে চুক্তিভিত্তিক সমঝোতাকে স্থান দিচ্ছেন, এমনকি তা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের প্রচলিত উদ্বেগ ও অবস্থানের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতেও প্রস্তুত রয়েছেন।

সর্বশেষ - রাজনীতি