আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
প্রায় দুই দশক পর শুক্রবার কলকাতায় ফিরেছেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরীন। এর আগে ২০০৭ সালে তার বিতর্কিত বই ‘দ্বিখণ্ডিত’-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জেরে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে তসলিমা নাসরীন বলেন, “আমার এখানে সত্যিই খুব ভালো লাগছে।”
আগামীকাল শনিবার (১ আগষ্ট) রবীন্দ্র সদনে মৌলবাদের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেবেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অনুষ্ঠানে একটি নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন তসলিমা নাসরীন। এরপর কবিতা আবৃত্তি করবেন এবং একটি আলোচনায় অংশ নেবেন তিনি।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে তসলিমা নাসরীনের বিরুদ্ধে ইসলামকে অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
এর আগে, পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের প্রত্যাবর্তনকে ‘ব্যক্তিগত ঘরে ফেরা’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেছিলেন, “আমি কখনও স্বেচ্ছায় কলকাতা ছাড়িনি; তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার আমাকে রাজ্য ছাড়তে বাধ্য করেছিল। তবুও আমি আশা ছাড়িনি যে একদিন আমি ফিরে আসব। বছরের পর বছর কেটে গেল, সরকার বদলাল, কিন্তু দরজা বন্ধই রইল।”
তার এই কলকাতা সফরের খবর একটি রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান দাবি করেছেন, লেখিকা প্রায়শই মুসলমানদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন এবং তার মতে, শুধুমাত্র এই কারণেই ‘ডাবল-ইঞ্জিন সরকার’ তাকে স্বাগত জানাচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী অগ্নিমিত্র পাল লেখিকার এই সফরকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “পূর্ববর্তী সরকারের আমলে তাকে ফেরার সুযোগ কখনও দেওয়া হয়নি। বিরোধীরা এত ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে, কিন্তু যখন তিনি তার বইতে সত্য লিখেছিলেন, তখন তারা তাকে নিরাপত্তা দেননি। তৃণমূল সরকারের আমলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে কেবল রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো। আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের অধীনে ১ আগস্ট তসলিমা নাসরীন আসছেন; এটি আমাদের জন্য গর্ব ও আনন্দের বিষয়।”
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে তার বিতর্কিত বই ‘দ্বিখণ্ডিত’-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জেরে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। এর আগে ২০০৩ সালে তৎকালীন সিপিএম-নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে তার বইটি নিষিদ্ধ করেছিল। ৬৩ বছর বয়সী এই লেখিকা এখন দীর্ঘমেয়াদী আবাসিক অনুমতি নিয়ে দিল্লিতে থাকেন।


















