বিনোদন ডেস্ক :
মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়ার পর নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী বলে দাবি করেছিলেন পরিণীতি চোপড়া। পুত্র নীরের বয়স দুই মাস পূর্ণ হতে না হতেই বদলে গেছে এই বলিউড অভিনেত্রীর পৃথিবী। তাঁকে ঘিরে ধরেছে মানসিক অবসাদ। তবে হাল ছাড়ার পাত্রী নন পরিণীতি। বিষাদ কাটিয়ে উঠতে তিনি রীতিমতো লড়াই শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন।
আনন্দবাজার, এইসময়সহ ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে, মা হওয়ার কিছুদিন পর থেকে অবসাদে ভুগতে শুরু করেছেন পরিণীতি চোপড়া। গত বছর ১৯ অক্টোবর মা হন এই বলিউড অভিনেত্রী। এরপর কিছুদিন উচ্ছ্বাসময় সময় কেটেছে তাঁর। সেই উচ্ছ্বাস বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। মুম্বাইয়ের অভিনয়জীবন ছেড়ে স্বামী-সন্তান নিয়ে দিল্লিতে সংসারে ব্যস্ত হয়ে উঠলেও, দিন দিন জীবনের স্বাদ ফিকে হয়ে আসতে থাকে। ধীরে ধীরে গ্রাস করতে শুরু করে অবসাদ। সেই অবসাদ কাটিয়ে উঠতে ঈশ্বরের আশ্রয় নিয়েছেন। অবসাদের কাছে কোনোভাবেই হার মানতে রাজি নন পরিণীতি। সে কারণে বদলে ফেলেছেন নিত্যদিনের রুটিন।
জানিয়েছেন, প্রতিদিন সকালে উঠে প্রথমেই বেশ কিছু মন্ত্র পাঠ করেন। যদিও তাঁর মধ্যে অন্যতম হলো হনুমান চালিশা। নিয়ম করে প্রতি সকালে পাখির ডাক শোনেন। নিজেকে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম করে নিতেই এ কাজটি ধারাবাহিকভাবে করে যাচ্ছেন। তারপরও অবসাদ থেকে মুক্তি মেলেনি।
পরিণীতির কথায়, ‘মনকে ইতিবাচক রাখলে শরীরও সেটিই মেনে চলবে। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ ঘুম থেকে উঠেই ফোনের দিকে চোখ রাখেন; যা সবচেয়ে খারাপ অভ্যাসের একটি। সারাটা দিন নষ্ট হওয়ার জন্য এটিই যথেষ্ট। তাই এই বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে চলি। আমার বিশ্বাস, নতুন যে রুটিন মেনে জীবন-যাপন করছি, তা সমস্ত অবসাদ থেকে দূরে রাখবে এবং শিগগিরই আগের মতো মানসিক অবস্থা ফিরে পাব।’
পরিণীতির স্বামী রাঘব রাজনীতিবিদ। দুটি ভিন্ন পেশার মানুষ, তবু দারুণ বোঝাপড়া তাদের। বিয়ের পর থেকে অনেকটাই কাজ কমিয়েছেন পরিণীতি। এ দিকে রাজনীতিতে ব্যস্ততা আপাতদৃষ্টিতে কমেছে রাঘবের। এর মাঝে পুত্রসন্তানের বাবা-মা হয়েছেন তারা। সন্তানের দায়িত্ব পরিণীতির। সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সামলাচ্ছেন তাঁর স্বামীও। তবু একটা অবসাদ ঘিরে ধরছে পরিণীতিকে। সন্তান হওয়ার পর নতুন মায়েরা মানসিক অবসাদে ভোগেন।
চিকিৎসা পরিভাষায় এই সমস্যাকে ‘পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন’ বলে। শিশুর জন্মের পরে চারপাশের অনেক কিছুই বদলে যায়। মায়েদের জীবন একেবারেই সন্তানকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে। এত বদলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চাপ অনেক ক্ষেত্রে ডেকে আনে অবসাদ। পরিণীতির ক্ষেত্রে সেটিই হয়েছে বলে অনেকের মত। তবে অভিনেত্রী যে নিজের সঙ্গে নিজে লড়াই করে অবসাদকে দূরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তা নিয়ে বাহবাও দিয়েছেন।


















