বিশেষ সংবাদদাতা :
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন রাজারকুল রেঞ্জের রাজারকুল, দাড়িয়ারদিঘি, আপারেজুসহ আশপাশের এলাকায় বনায়নের গাছ নির্বিচারে ধ্বংস করে একশো একরের বেশি বনভূমি দখল হয়ে গেছে। এখান থেকে রাজারকুল রেঞ্জ কর্মকর্তা অভিউজ্জামান ও দাড়িয়ারদীঘি বিট কর্মকর্তা শিহাব এবং আপাররেজু বিট কর্মকর্তা ফুয়াদ প্রায় এক কোটি টাকা অবৈধ আয় করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে দখলবাজ চক্রের হাতে বনবিভাগ অসহায় হয়ে পড়া ও মামলা দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা ও দুই বিট কর্মকর্তা। বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় নামধারী কিছু দখলবাজরা বনবিভাগকে ম্যানেজ কোটি কোটি টাকা মূল্যের বনজ সম্পদ জবরদখল করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজারকুল রেঞ্জের দারিয়ারদীঘি পাইন বাগান এলাকায় বনভূমি অবৈধভাবে দখল করে বাড়ী নির্মাণের হিড়িক চলছে। বনভূমিতে স্থাপনা করতে বনবিভাগকে মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে এসব করা হয় বলে জানিয়েছেন কয়েকজন বনভূমিতে বসবাসকারী। পাহাড়গুলো কেটে সমান করে ফেললেও এ বিষয়ে নির্বিকার রয়েছে সংশ্লিষ্ট বনবিভাগের কর্মকর্তারা।পাহাড় কাটা, মাটি পাচার, অবৈধ বালি পাচার, অবৈধ করাত কল, সরকারি বনভুমির জায়গা বিক্রি, অবৈধ স্থাপনা নির্মান, বনায়নের কাঠ পাচার থেকে শুরু করে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি সহযোগিতা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন রাজারকুল রেঞ্জ কর্মকর্তা অভিউজ্জামান ও আপাররেজু বিট কর্মকর্তা ফুয়াদ এবং দাড়িয়ারদীঘি বিট কর্মকর্তা শিহাব।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, থোয়াইঙ্গাকাটা কালুর দোকান এলাকায় বনভূমি ক্রয় করে পাহাড় কেটে বাড়ি নির্মাণের চেষ্টা করছে একটি পাহাড়খেকো চক্র। স্থানীয় রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তা মোটা অংকের টাকা নিয়ে পাহাড় কাটা দেখেও না দেখা ভান ধরে আছে। দারিয়ারদীঘি বিটের সাদির কাটা এলাকায় বিশাল পাহাড় কেটে সাবাড় করা হলেও চুপ রয়েছে স্থানীয় বনবিভাগ। আপারেজু বনবিটের একাধিক এলাকায় পাহাড় কেটে বনভূমি দখলের হিড়িক পড়লেও কোন খবর নাই স্থানীয় বনবিভাগের কর্মকর্তাদের। থোয়াইঙ্গাকাটা জামে মসজিদের পর্বপাশে ডাঙাবিটা এলাকায় দুই সপ্তাহ ধরে স্কেভেটর দিয়ে দিনদুপুরে বিশাল পাহাড় কাটা চলছে। গত সপ্তাহে খুনিয়াপালং থোয়াইঙ্গাকাটার হাতিরডেবা এলাকার বাবুল ও রমজানকে কাঠপাচার করছে মর্মে ধরে নিয়ে যায়।এক রাতে একটি ঘরে আটক রেখে পরদিন ৮ হাজার টাকা করে মোট ১৬ হাজার টাকা এবং মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয় আপাররেজু বিট কর্মকর্তা।
এবিষয়ে বিট কর্মকর্তা ফুয়াদ জানান, কাঠপাচারের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নামে ও লাখ লাখ টাকা মাসোহারা উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে দুই বিট কর্মকর্তা এসব মাসোহারা উত্তোলন করে। ভিলেজার, বনভূমিতে বসবাসকারী, অবৈধ করাত কলের মালিক,ফার্নিসার দোকানি, পাহাড় দখলদার থেকে এসব চাঁদা উত্তোলন করে তারা। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, যতই বনের দিকে যাই, কাঠ চোর সিন্ডিকেটের লোকজন নির্বিচারে বনায়নের কাঠ নিধনের দৃশ্য দেখা যায়।
জানতে চাইলে বলেন, এসব মাসোহারা দিয়ে করছি বলে জানিয়েছেন তারা। অভিযোগ উঠেছে, গত ১৪ জানুয়ারি রাতে রাজারকুল ও উখিয়া রেঞ্জ যৌথ অভিযানে রাজারকুল রেঞ্জের আপাররেজু বিটের থোয়াইঙ্গাকাটা নামক স্থান থেকে একটি ডাম্পার পাহাড় থেকে মাটি কাটা অবস্থায় জব্দ করে রাজারকুল রেঞ্জ কর্মকর্তা অভিউজ্জামান। জব্দকৃত ডাম্পার গাড়িটি রেঞ্জে ছিল। দীর্ঘ দেড় মাস পর মোটা অংকের লেনদেন করে রাতের আধাঁরে ডাম্পারটি ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এবিষয়ে জানতে রাজারকুল রেঞ্জ কর্মকর্তা অভিউজ্জামানকে একাধিক বার কল দিয়েও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


















