নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ৫ একর ৮৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ জমি ক্রোক ও তিনটি গাড়ি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এ নির্দেশ দেন।
পৃথক এক নির্দেশে আনিসুল হকের ব্যক্তিগত সরকারি (পিএস) শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ারও ৬টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলমের পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এসব নির্দেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আনিসুল হকের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, আখাউড়া, ময়মনসিংহের ত্রিশাল ও গাজীপুরের কালীগঞ্জের ৫ একর ৮৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ জমি ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই জমির মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৬৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭৭৯ টাকা। এদিকে জব্দের নির্দেশ দেওয়া তিনটি গাড়ির মধ্যে একটির দাম সাড়ে ৩ কোটি, আরেকটি ৬১ লাখ এবং অন্যটি ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে।
আনিসুল হকের আবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী হিসেবে অপরাধমূলক অসদাচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসাধু উপায়ে নিজ নামে ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১৪৬ কোটি ১৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৬ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জনপূর্বক দখলে রাখেন তিনি। এ ছাড়া ২৯টি ব্যাংক হিসাবে ৩৪৯ কোটি ১৫ লাখ ২১ হাজার ৫৮২ টাকা জমা ও ৩১৬ কোটি ৪৮ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন করে মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধ করেছেন তিনি। এসব অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
মামলা তদন্তকালে দুদক জানতে পেরেছে, আনিসুল হক তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর ও স্থানান্তর করার চেষ্টা করছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এসব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ করা প্রয়োজন।
আনিসুল হকের ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার ৬টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধেরও আদেশ দিয়েছেন একই আদালত। এসব হিসাবে ৫০ লাখ ১৪ হাজার ৮১৮ টাকা রয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া অপরাধলব্ধ অর্থ তাঁর বা তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব থেকে উত্তোলন, হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টায় রয়েছেন। এ কারণে তাঁর নামে থাকা ৬টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।


















