বিশেষ সংবাদদাতা: চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন বিভাগের এফজি (ফরেস্ট গার্ড) কল্যাণ সমিতির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার বিরুদ্ধে চরম অনিয়ম, দুর্নীতি ও একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) আমীর হোসেন চৌধুরীর প্রত্যক্ষ আশ্রয়ে সমিতির নেতারাসহ একটি সিন্ডিকেট পুরো অঞ্চলে তাদের প্রভাব বজায় রাখছে বলে জানা গেছে।
পরিদর্শন ও অনুসন্ধানে উঠে আসে, এফজি কল্যাণ সমিতির সভাপতি জসীম উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা, এবং সদস্য আসলাম ও কাউছারের যৌথ দাপটে চট্টগ্রাম বন বিভাগ কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে। অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি, বদলি বাণিজ্য ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের কারণে কোনো কর্মকর্তা এদের অপকর্মের প্রতিবাদ করার সাহস পান না। প্রতিবাদ করলেই শুরু হয় নানা ধরনের অপপ্রচার ও হয়রানি।
সিন্ডিকেটের মূল অভিযোগ ও কার্যক্রম:পছন্দসই পোস্টিং: চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ, লামা, বান্দরবান ও পাল্পউড প্ল্যান্টেশনের লোভনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ বিট বা চেকপোস্টগুলোতে সমিতির শীর্ষ সদস্যরা ছাড়া অন্য কারো পদায়ন হয় না। একই এলাকায় বছরের পর বছর স্থায়িত্ব বদলির নিয়ম তোয়াক্কা না করে এরা ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে একই সার্কেলে চাকরি করছেন।
চট্টগ্রামের বাইরে বদলি না হওয়ার কৌশল: এই সিন্ডিকেটের অধিকাংশ সদস্যের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকায়। চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাইরে বদলি হতে হবে—এই ভয়ে তারা পদোন্নতি (প্রমোশন) পর্যন্ত নিতে অস্বীকৃতি জানান।
নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর ফরেস্ট গার্ডদের অন্য অঞ্চলে বদলি করার বিধান থাকলেও, প্রধান বন সংরক্ষককে বিশেষ প্রক্রিয়ায় ম্যানেজ করে তারা বছরের পর বছর লাভজনক স্থানগুলোতে জেঁকে বসে আছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে এফজি কল্যাণ সমিতির সভাপতি জসীম উদ্দীনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, সরকারি বিধি ও নিয়ম অনুসরণ করেই সব বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
সার্বিক অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসেন চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল এবং মুঠোফোনে বার্তাও (এসএমএস) পাঠানো হয়। তবে তার কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


















