Wednesday , 9 September 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুড়িগ্রাম
  9. কুমিল্লা
  10. কুষ্টিয়া
  11. কৃষি ও প্রকৃতি
  12. ক্রীড়াঙ্গন
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. গাইবান্ধা

ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়ার পর ‘বন্দুকযুদ্ধ’: ট্রাইব্যুনালে টিপু হাওলাদারের স্ত্রীর সাক্ষ্য

প্রতিবেদক
Newsdesk
September 9, 2026 12:59 am

বিশেষ প্রতিনিধি: ক্রসফায়ারের ভয় এড়িয়ে প্রাণ বাঁচাতে বাড়ি ছেড়েছিলেন ছাত্রদল নেতা টিপু হাওলাদার। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি; ঢাকায় মামার বাসা থেকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়ার পরদিনই মিলল তাঁর নিথর দেহ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২–এ হাজির হয়ে স্বামী হত্যার সেই বর্বরোচিত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন স্ত্রী সুমা আক্তার।
​২০১৫ সালে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার ও জাসাস নেতা কবির মোল্লাকে বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি ২০তম সাক্ষী হিসেবে এই জবানবন্দি দেন।
​জবানবন্দিতে সুমা আক্তার জানান, তাঁর স্নাতকোত্তর পাস স্বামী একটি এনজিও পরিচালনার পাশাপাশি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তৎকালীন সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের দলবদলের প্রবল চাপ এবং এলাকা জুড়ে ক্রসফায়ারের আতঙ্কে চরম মানসিক অশান্তিতে ছিলেন টিপু। একপর্যায়ে প্রাণভয়ে ও চাকরির খোঁজে ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জে মামার বাসায় আশ্রয় নেন।
​তবে ১৯ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঘাটারচরের ওই বাসা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে টিপুকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পরদিন সুমা আক্তার থানা পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও স্বামীর কোনো সন্ধান পাননি। সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর বরিশালের বাসভবনে দেখা করতে গেলেও তাঁকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
​পরদিন ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে টেলিভিশনের সংবাদের মাধ্যমে সুমা জানতে পারেন, তাঁর স্বামী টিপু হাওলাদার এবং জাসাস নেতা কবির মোল্লা তথাকথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। সুমা আক্তার ট্রাইব্যুনালকে জানান, পরে তিনি জানতে পারেন—তৎকালীন এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও বরিশাল জেলার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এহসান উল্লাহর নির্দেশে উজিরপুর থানার তৎকালীন দুই কর্মকর্তা মাহাবুল ও জসিম এই ক্রসফায়ার দেন।
​উল্লেখ্য, এই মামলার চার আসামির মধ্যে উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তবে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং তৎকালীন এসপি এ কে এম এহসান উল্লাহ এখনো পলাতক।

সর্বশেষ - অপরাধচিত্র বিশেষ