Wednesday , 29 July 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুমিল্লা
  9. ক্রীড়াঙ্গন
  10. খুলনা
  11. খেলাধুলা
  12. গাইবান্ধা
  13. গাজীপুর
  14. চট্রগ্রাম
  15. চুয়াডাঙ্গা

টেস্ট বাণিজ্য ও অপ্রয়োজনীয় সিজারের বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

প্রতিবেদক
Newsdesk
July 29, 2026 5:18 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের টেস্ট বাণিজ্য, কমিশনভিত্তিক রোগী রেফার এবং অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির কথাও জানিয়েছেন তিনি।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীতে ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয় দক্ষতার একটি দ্রুত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেন্ট রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট।

মন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালের দায়িত্ব পালন করে পাশের বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করা, রোগীকে সেখানে টেস্ট করাতে পাঠানো কিংবা কমিশনভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। এসব কার্যক্রম নিয়মিতভাবে মনিটর করা হবে।

তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী সরিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে নেওয়ার দালাল চক্রের বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যসেবাকে কোনোভাবেই বাণিজ্যে পরিণত হতে দেওয়া হবে না।

টেন্ডারে ‘অবাস্তব শর্ত’ দিয়ে সুবিধাভোগীদের কাজ
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকারি টেন্ডারে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন শর্ত যুক্ত করা হয়, যাতে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কেউ অংশ নিতে না পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, পাঁচ বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার লেনদেনের অভিজ্ঞতার মতো শর্ত দিয়ে প্রতিযোগিতা সীমিত করা হয় এবং পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়।

কোটি টাকার যন্ত্র কিনে ফেলে রাখা হয়েছে
স্বাস্থ্য খাতে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের (আওয়ামী লীগ) সময়ে ১১ কোটি টাকার রেডিওথেরাপি মেশিন ১৮ কোটি টাকা দিয়ে কেনা হয়েছিল। কিন্তু যেখানে মেশিন বসানো হয়েছে, সেখানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোই ছিল না। একটি ফরিদপুরে, অন্যটি খুলনায় পড়ে আছে। একইভাবে কারিগরি জনবল ছাড়াই এক্স-রে ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি কিনে ফেলে রাখা হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত অকেজো হয়ে যাচ্ছে।

গবেষণায় উঠে এল বাজেট ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা
অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। গবেষণায় দেশের আট বিভাগের ২২টি সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ২০২৪–২৫ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন, ক্রয়প্রক্রিয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, জরিপভুক্ত প্রতিষ্ঠানের গড় বাজেট বাস্তবায়নের হার ৮৫ শতাংশ। মাধ্যমিক পর্যায়ের হাসপাতালে বাস্তবায়নের হার সবচেয়ে কম, ৭৮ শতাংশ। অর্থবছর শেষে ৯৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে অব্যয়িত অর্থ ছিল। তবে মাত্র ১১ শতাংশ উত্তরদাতা আর্থিক অনিয়মকে এর কারণ হিসেবে দেখেছেন। সাধারণ সরঞ্জাম খাতে বরাদ্দের মাত্র ২৭ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। ভ্রমণ ও স্থানান্তর খাতে ব্যয়ের হার ৬৮ শতাংশ এবং পেশাগত সেবা ও সম্মানী খাতে ৫৯ শতাংশ।

গবেষণায় বলা হয়, অব্যয়িত অর্থের প্রধান কারণ আর্থিক অনিয়মের চেয়ে বাজেট ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত দুর্বলতা ও প্রশাসনিক জটিলতা।

ডায়ালাইসিসে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পরিকল্পনা
মন্ত্রী জানান, আগের সরকারের (আওয়ামী লীগ) সময় থেকে একটি বিদেশি কোম্পানি ঢাকা ও চট্টগ্রামে ডায়ালাইসিস সেবার বড় অংশ পরিচালনা করে আসছিল। নভেম্বরে তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তা আর নবায়ন করা হবে না। সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডায়ালাইসিস মেশিন সংগ্রহ করবে।

তিনি আরও বলেন, এর ফলে আগামী ডিসেম্বর থেকে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং কম খরচে রোগীরা ডায়ালাইসিস সেবা পাবেন। পাশাপাশি প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যা এবং প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

এআই কিট নিয়ে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যকর্মী
দেশে ডায়াবেটিস, স্তন ও জরায়ু ক্যান্সারসহ অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে ১০টি উপজেলা ও ৯০টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যকর্মীদের সাইকেল, স্মার্টফোন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সমৃদ্ধ কিট বক্স দেওয়া হবে। এই কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে উচ্চতা, ওজন, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, লিপিড প্রোফাইল, আরবিসি ও সিবিসি পরীক্ষাসহ প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন। নারী স্বাস্থ্যকর্মীরা নারীদের এবং পুরুষ স্বাস্থ্যকর্মীরা পুরুষদের সেবা দেবেন।

অডিটের নামে ঘুষ নয়
মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অডিটের নামে কোনো কর্মকর্তাকে এক টাকাও ঘুষ দেওয়া যাবে না। কেউ অনৈতিক অর্থ দাবি করলে তা সরাসরি তাকে জানাতে বলেন তিনি।

অপ্রয়োজনীয় সিজারের বিরুদ্ধে অভিযান
অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধে সারাদেশে তদারকি জোরদারের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে আকস্মিক পরিদর্শন বাড়ানো হয়েছে।

তিনি জানান, প্রয়োজনীয় লেবার রুম, লেবার চেয়ার ও নবজাতকের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়া পরিচালিত অনেক ক্লিনিক ইতিমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হক, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজাসহ স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

সর্বশেষ - রাজনীতি