রবিবার , ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ১১ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খুলনা
  7. খেলাধুলা
  8. চট্রগ্রাম
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. ঢাকা
  12. তথ্য-প্রযুক্তি
  13. প্রবাসের কথা
  14. বরিশাল
  15. বিনোদন

নির্বাচনের সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: সিইসি

প্রতিবেদক
Newsdesk
জানুয়ারি ২৫, ২০২৬ ১০:০৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, আসন্ন গণভোট এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। এজন্য নির্বাচন কমিশন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আজ (রোববার, ২৫ জানুয়ারি) ঢাকার হোটেল ওয়েস্টিনে কূটনৈতিক মিশনসমূহের প্রধান, বাংলাদেশস্থ জাতিসংঘের সংস্থাসমূহের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাগণের উপস্থিতিতে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করতে নির্বাচন কমিশন এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে।

বাংলাদেশ বর্তমানে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক সংহতি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জন-আস্থা সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে আসন্ন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।’

নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি তুলে ধরে সিইসি বলেন, ‘পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে স্বাধীন, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য করার লক্ষ্যে কমিশন কাজ করছে। নির্বাচনি প্রস্তুতি একটি সমন্বিত ও বহুমাত্রিক পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আইনগত সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি, অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ এবং কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন।’

ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ‘দেশব্যাপী ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ৪৫ লাখ নতুন ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন, যার মধ্যে নারী ভোটার প্রায় ২৬ লাখ ৬৫ হাজার। বর্তমানে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখের বেশি। ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রমে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা নির্বাচন কমিশনকে গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছে, যা নিবন্ধন কার্যক্রমের সফলতায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।’

সিইসি বলেন, ‘নাগরিকদের দাবি, আইনগত নীতি ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের সীমানা পর্যালোচনা করা হয়েছে। যেখানে যৌক্তিকতা পাওয়া গেছে, সেখানে নির্বাচনি এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।’

পোস্টাল ভোটিং প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন প্রথমবারের মতো বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি ভোটারদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি-নির্ভর পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানের ব্যবস্থা চালু করেছে, যা ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং’ কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৮ লাখ প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন। দেশের অভ্যন্তরেও পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর আওতায় নির্বাচনি এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনি হেফাজতে থাকা নিবন্ধিত ভোটাররা ভোট প্রদান করবেন।’

সিইসি বলেন, ‘বর্তমানে সকল নির্বাচনি উপকরণ প্রস্তুত রয়েছে। ব্যালট পেপার মুদ্রণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া, নির্বাচন-সংক্রান্ত অভিযোগ ও বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

সিইসি আরও বলেন, ‘ভোটদানে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।’

বাংলাদেশের সরকার সংবিধানসম্মত দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করছে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে কমিশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।’

শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ ভোট গ্রহণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে। সিইসি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে কূটনীতিকদের অব্যাহত সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

ব্রিফিংয়ে আসন্ন নির্বাচনের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। নির্বাচনে মোট প্রার্থী ১ হাজার ৯৯৪ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫৬ জন। নির্বাচনে ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন।

এছাড়া নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক থাকবেন প্রায় ৫০০ জন। তিনি আরও জানান, আসন্ন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকবেন বিভিন্ন বাহিনীর ৯ লাখ ৪৩ হাজার ৫০ জন সদস্য। এছাড়া নির্বাচনে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন।

এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা ৬৯ জন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ৫৯৮ জন, প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৭৬৪ জন। এর পাশাপাশি পোস্টাল ভোটের দায়িত্বে থাকবেন প্রায় ১৫ হাজার কর্মকর্তা।

নির্বাচন-সংক্রান্ত পরিসংখ্যান উপস্থাপন শেষে কূটনীতিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম সরকার-সহ ৪১টি কূটনৈতিক মিশনের প্রধান, বাংলাদেশস্থ জাতিসংঘের ১১টি সংস্থার প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ব্রিফিং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

 

সর্বশেষ - রাজনীতি