সোমবার , ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | ২২শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খুলনা
  6. খেলাধুলা
  7. চট্রগ্রাম
  8. জাতীয়
  9. জেলার খবর
  10. ঢাকা
  11. তথ্য-প্রযুক্তি
  12. প্রবাসের কথা
  13. বরিশাল
  14. বিনোদন
  15. ব্যাবসা-বাণিজ্য

প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৮ সুপারিশ

প্রতিবেদক
Newsdesk
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৫ ৮:২১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলা ও গণিত বিষয় পাঠদানের সময় ৭৫ মিনিট নির্ধারণ, এক শিফট ব্যবস্থা, সমাপনী পরীক্ষার পরিবর্তন, শিক্ষা পরামর্শক পরিষদ সহ প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সংস্কারে আটটি সুপারিশ দিয়েছে পরামর্শক কমিটি।

আজ সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব সুপারিশ তুলে ধরেন প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সংস্কার পরামর্শক কমিটির আহ্বায়ক ড. মনজুর আহমেদ। এদিন বিকেলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

এতে ৮টি মূল বিষয়ের ওপর শতাধিক প্রধান ও আনুষঙ্গিক সুপারিশ প্রদান করা হয়েছে। এই সুপারিশগুলোর উদ্দেশ্য হলো, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান উন্নয়ন ও শিশুদের শিখন দক্ষতা বৃদ্ধি করা। কমিটি দেশের ১১টি জেলার ১২টি উপজেলার সরেজমিন পরিদর্শন এবং বিভিন্ন অংশীগোষ্ঠীর সঙ্গে মতবিনিময় করে এই সুপারিশ তৈরি করেছে।

প্রধান সুপারিশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:

১. বাংলা ও গণিতের ভিত্তিমূলক দক্ষতা: শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষায় বাংলা ও গণিতের ভিত্তিমূলক দক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এই দুটি বিষয় প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭৫ মিনিটের জন্য নির্ধারণ করা উচিত।

২. এক শিফটের বিদ্যালয় ব্যবস্থা: বিদ্যালয়ে এক শিফটে পাঠদান কার্যক্রম চালু করতে হবে। কমিটি সুপারিশ করেছে যে, পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কার্যক্রমে (PEDPS) অন্তত ৫০% বিদ্যালয়ে এক শিফট চালু করা যেতে পারে এবং দশ বছরের মধ্যে সব বিদ্যালয়ে এক শিফটে পাঠদান নিশ্চিত করা উচিত।

৩. শিক্ষক সহায়তা ও পেশাগত উন্নয়ন: পিছিয়ে পড়া শিশুদের জন্য শ্রেণির মধ্যে এবং বাইরে শিক্ষণ সহায়তা প্রদান করা, এবং শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য পদোন্নতি ও মর্যাদা বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

৪. বিদ্যালয় মূল্যায়ন ও শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি: প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার পরিবর্তে জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন (National Student Assessment) চালু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে বিদ্যালয়গুলোকে ‘সবুজ’ বা ‘লাল’ চিহ্নিত করা হবে, এবং প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করতে হবে।

৫. দরিদ্র পরিবার ও শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা: দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিল, শিক্ষা সামগ্রী প্রদান এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে বিশেষ সহায়তা প্রদান করা হবে।

৬. দুর্নীতি ও অসদাচারণ নিরোধ: দুর্নীতি, অসদাচরণ ও কর্তব্যে অবহেলা নিরোধের লক্ষ্যে একটি অন্যতম সুপারিশ হলো, অভিযোগ জানানোর জন্য দেশব্যাপী হটলাইন স্থাপন করা যেতে পারে। সব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সেইসঙ্গে এসব তথ্য নিয়মিত সময়ান্তরে জনসমক্ষে প্রকাশ করা যেতে পারে।

৭. বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে পাইলট প্রকল্প: শিক্ষা শাসন ও ব্যবস্থাপনার প্রকৃত বিকেন্দ্রায়নের উদ্দেশ্যে দেশের দশ জেলার ২০টি উপজেলার পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় পাইলট প্রকল্প শুরু করা যেতে পারে।পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ শুরু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
চলমান ৫+ বয়সের শিশুদের প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার যথাযথ মানোন্নয়ন এবং ৪+ শিশুদের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি অন্যান্য বিদ্যালয়েও অভিভাবকদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়-বহির্ভূত শিশুদের কার্যসূচি প্রণয়ণ করতে হবে। এতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষাব্যুরোর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত ও দক্ষ এনজিওদের সহযোগিতায় কার্যকর মডেল তৈরি করাতে হবে।

৮. সুযোগবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিশেষ পদক্ষেপ: শ্রমজীবী, প্রতিবন্ধী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। ফেন্ডার ন্যায্যতা ও জলবায়ু অভিযাত বিষয়ে এবং দুর্গম এলাকার শিশু ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ অন্যান্য অঞ্চলের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধিতে নির্দিষ্ট পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটি আরও সুপারিশ করেছে, যে শিক্ষা শাসন ও ব্যবস্থাপনায় বিকেন্দ্রীকরণের জন্য পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে দশ জেলার ২০টি উপজেলায় কার্যক্রম শুরু করা উচিত। এছাড়া আরও কিছু সুপারিশ দিয়েছে পরামর্শক কমিটি।ি

১. গ্রেড পরিবর্তন: বর্তমানে শিক্ষকরা ১৬তম গ্রেডে আছেন। কিন্তু তা পরিবর্তন করে শিক্ষক পদে প্রবেশ ১২তম গ্রেডে, দুই বছর পর স্থায়ীকরণ, আরো দুই বছর পর ১১তম মোডে সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি। শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষক নিয়মানুসারে উচ্চতর স্কেল পাওয়ার যোগ্য হবেন। সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ বৃদ্ধি করা যেতে পারে এবং সিনিয়র শিক্ষকদের মধ্য থেকে দায়িত্বভাতাসহ পদায়ন করা যেতে পারে।

২. শূন্য পদ: মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে পদোন্নতিযোগ্য পদসমূহ ও শূন্যপদ পূরণ, সমন্বিত মেডেশন, পারস্পরিক বদলি, আঞ্চলিক অফিস স্থাপন এবং প্রাথমিক শিক্ষা ক্যাডার সার্ভিস বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।

৩. শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ: শিক্ষকদের প্রি-সার্ভিস শিক্ষা ও যোগ্যতা অর্জন এবং শিক্ষক। শিক্ষাকর্মীদের নিরক্ষর পেশাগত উন্নয়ন (Continuous Professional Development)-এর সুপারিশ প্রদান করা

৪. বিদ্যালয় শিক্ষার সামগ্রিক পরিকল্পনা ও শিক্ষা কমিশন: সর্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত মানসম্মত বিদ্যালয় শিক্ষার খাত পরিকল্পনা এবং স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের বিষয় সুপারিশ করা হয়েছে।

৫. শিক্ষাখাতের জন্য পরামর্শক পরিষদ: প্রাথমিক শিক্ষা সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ। শিক্ষাখাতের সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার উদ্দেশ্যে শিক্ষা পরামর্শক পরিষদ (Education Consultantive Council) গঠিত হতে পারে। পরে তা স্থায়ী শিক্ষা কমিশনে রূপান্তরিত হতে পারে। শিক্ষা সংস্কারের জন্য কোনো সহজ জাদু-সমাধান নেই। প্রদত্ত সুপারিশ সম্বন্ধে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সমাবদ্ধ সমন্বিত বাস্তবায়ন কর্ম-পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কার্যক্রম ও সরকারের বার্ষিক বাজেট হবে সুপরিশ বাস্তবায়নের প্রধান বাহন।

এই সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের জন্য কমিটি সরকারের কাছে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে, এবং সুপারিশগুলো কার্যকর করতে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে।

 

 

সর্বশেষ - জেলার খবর