সাতক্ষীরা থেকে আবদুল্লাহ আল মামুন:
নৈতিক স্খলনের অভিযোগে দলীয় পদ ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও দেশের ২৩ তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় স্থান পেয়েছেন সাতক্ষীরা ৪ শ্যামনগর-কালীগঞ্জের একাংশ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরাজুড়ে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল ও তুমুল আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের পর তার সংসদীয় আসনটি শূন্য ঘোষণার আবেদন জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে দরখাস্ত পাঠিয়েছিল রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী। তবে তা এখনো নিষ্পত্তীন বা অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে।
সংবিধান ও সংসদীয় আইন অনুযায়ী, দলীয় সিদ্ধান্ত বা বহিষ্কারের আবেদন জমা হলেও যতক্ষণ পর্যন্ত স্পিকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আসন শূন্য ঘোষণা না করেন ততক্ষণ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আইনত পদাধিকার বলে সংসদ সদস্য হিসেবে বহাল থাকেন। আইনগত এই সুযোগের কারণেই সংসদ সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার ভোট দেওয়ার অধিকার বহাল রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট রাতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্ত করে যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকার গেজেট প্রকাশ করেছে সেখানে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্যের নাম রয়েছে।
এ বিষয়ে এলাকার স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করছেন সংসদীয় আইনের জটিলতা ও স্পিকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকার কারণে আইনগতভাবে গাজী নজরুলের নাম ভোটার তালিকায় উঠে এসেছে যা সাতক্ষীরার স্থানীয় রাজনীতির জলঘোলা পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল:
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টার মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। একাধিক প্রার্থী থাকলে আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। একক প্রার্থী হলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটাভুটিতে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।


















