অপরাধচিত্র ডেস্ক : রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনস্বার্থ ও গণমাধ্যমের স্বাধীন ভূমিকার মধ্যে ভারসাম্যের লক্ষ্যে কাজ করছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। এক বিবৃতিতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দায়িত্বশীল বাহিনী। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে থাকেন। দায়িত্ব পালনকালে তারা নিজস্ব কোনো নিয়ম প্রয়োগ করেন না, বরং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নিরাপত্তা নির্দেশিকা, নীতিমালা ও প্রচলিত আইন বাস্তবায়ন করেন।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে আনসার সদস্যদের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের কিছু ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার আংশিক ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে নেতিবাচকভাবে প্রচারিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও ভিন্নধর্মী ব্যাখ্যার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বিষয়টির আইনগত ও বাস্তব দিক সম্পর্কে কিছু তথ্য উপস্থাপন করা প্রয়োজন বলে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী মনে করে।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী আরও জানায়, সরকারি স্থাপনার আইনগত ও নিরাপত্তাজনিত বিবেচনায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এসব এলাকায় প্রবেশ, চিত্র ধারণ বা তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নীতিমালা, নিরাপত্তা নির্দেশনা এবং প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। এসব ক্ষেত্রে দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার সদস্যরা কেবল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেন। এটি তাদের ব্যক্তিগত কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও পেশাদার গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ হিসেবে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় জনগণের সামনে তুলে ধরে এবং রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও সম্মান রয়েছে।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনস্বার্থ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আইন ও বিধি-বিধানের যথাযথ প্রতিপালন—উভয়ই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অপরিহার্য উপাদান। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম কর্মীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে যে কোনো তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা ভুল বোঝার সম্ভাবনা এড়ানো যেতে পারে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বিশ্বাস করে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ, দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী এবং অন্যান্য অংশীজন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, পেশাদার আচরণ, আইনগত সচেতনতা ও কার্যকর সমন্বয়ের ভিত্তিতে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও ভুল বোঝাবুঝি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী কারও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা আইনসম্মত পেশাগত দায়িত্ব পালনের প্রতিবন্ধক নয়। বরং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনস্বার্থ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল অংশীজনের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও পেশাদারির ভিত্তিতে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাওয়াই এ বাহিনীর অঙ্গীকার।


















