আবদুল্লাহ আল মামুন — সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে কথিত প্রেমিকের বাড়িতে গত ২২ দিন ধরে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, পুলিশ একবার কিশোরীকে উদ্ধার করে বাবার জিম্মায় দিলেও বাড়ি ফেরার পথেই তাকে পুনরায় নিয়ে যায় অভিযুক্ত আবু সাঈদ ও তার লোকজন। এরপর থেকেই মেয়েকে ফিরে পেতে দিশেহারা পরিবার।
শুধু মেয়েকে হারানোর আতঙ্ক নয়—এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভয়ভীতি ও হুমকির অভিযোগ। কিশোরীর বাবার দাবি, মেয়েকে উদ্ধারের জন্য আবার পুলিশে গেলে তাকে এবং তার মেয়েকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
নিখোঁজের পর থানায় জিডি
কিশোরীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ আগস্ট সকালে শ্যামনগরের খোসালখালী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় ওই কিশোরী। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ওই রাতেই শ্যামনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১১৬০) করেন তার বাবা।
জিডির সূত্র ধরে গত ২২ আগস্ট রাতে অভিযুক্ত আবু সাঈদের কাছ থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাত ৯টার দিকে তাকে বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়।
বাড়ি ফেরার পথেই ফের নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
কিশোরীর বাবার অভিযোগ, পুলিশ থেকে মেয়েকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর পথেই আবু সাঈদ ও তার লোকজন তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে কিশোরীকে পুনরায় নিয়ে যাওয়া হয়।
মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে অভিযুক্তের বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা তাদের ওপর চড়াও হন এবং মারধরের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেছেন কিশোরীর বাবা।
তার দাবি, পুনরায় থানা-পুলিশ করলে মেয়েকে হত্যা করে লাশ গুম করার পাশাপাশি তাকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
সিসিটিভিতে নজরদারির অভিযোকিশোরীর পরিবারের আরও অভিযোগ, অভিযুক্তের পুরো বাড়ি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের চলাফেরার ওপরও নজরদারি করা হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
ফলে মেয়েকে উদ্ধারের চেষ্টা করতেও ভয় পাচ্ছে পরিবারটি। একদিকে মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, অন্যদিকে কথিত হুমকি—দুই দিক থেকেই চাপে রয়েছেন কিশোরীর বাবা-মা।
এসপির কাছে মেয়ে ফেরত চেয়ে বাবার আকতি:
পরিস্থিতির মধ্যে মেয়েকে উদ্ধারের আকুতি জানিয়ে গত মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন কিশোরীর বাবা।
আবেদনে তিনি মেয়েকে দ্রুত উদ্ধার, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
‘বিয়ে করে সংসার করছি’—অভিযুক্তের দাবি
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবু সাঈদ দাবি করেন, তিনি ওই কিশোরীকে বিয়ে করে নিজ বাড়িতে সংসার করছেন।
তার বাবা নুর ইসলামও দাবি করেন, আদালতের মাধ্যমে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে ১৬ বছর বয়সী একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর বিয়ে কীভাবে সম্পন্ন হলো—এমন প্রশ্ন করা হলে মুঠোফোনের অপর প্রান্ত থেকে এক নারী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
পুলিশের বক্তব্য কী?
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাফিউল ইসলাম জানান, প্রথমবার খবর পাওয়ার পর পুলিশ কিশোরীকে উদ্ধার করে তার বাবার কাছে হস্তান্তর করেছিল।
তবে পরবর্তীতে আবার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে কিশোরীর পরিবার বা অন্য কেউ থানায় কোনো অভিযোগ করেনি বলে জানান তিনি।
স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভয়ভীতির কারণে পরিবারটি আতঙ্কে রয়েছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং কিশোরীর বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


















