Thursday , 5 November 2026 |
  1. অনিয়ন ও দুর্নীতি
  2. অপরাধ
  3. অপরাধচিত্র বিশেষ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন-আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. কক্সবাজার
  8. কিশোরগঞ্জ
  9. কুড়িগ্রাম
  10. কুমিল্লা
  11. কুষ্টিয়া
  12. কৃষি ও প্রকৃতি
  13. ক্রীড়াঙ্গন
  14. খুলনা
  15. খেলাধুলা

সংবাদ প্রকাশ করলেই গ্রেপ্তার নয়, নিতে হবে আদালতের পূর্বানুমতি

প্রতিবেদক
Newsdesk
November 5, 2026 12:29 am

সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় নীতিগত ঐকমত্য, বাদ পড়তে পারে মোবাইল কোর্টের বিধান

অপরাধচিত্র ডেস্ক:

সংবাদ প্রকাশ বা প্রচারের কারণে সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যমের মালিক কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে হলে সংশ্লিষ্ট আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধান রাখার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে মন্ত্রিসভার কমিটিতে। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের অধিকার সুরক্ষায় এমন উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে বুধবার (৪ নভেম্বর) ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকতার স্বাধীনতা রক্ষায় নতুন উদ্যোগ

সভায় সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তাবিত আইনটি পরিমার্জন ও চূড়ান্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার কিংবা আইনি হয়রানির ঘটনা যেন নতুন আইনের মাধ্যমে আরও বিস্তৃত না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আলোচনায় উঠে আসে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নাগরিকের মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের কার্যকর ব্যবস্থাও থাকতে হবে। তবে আইনের কোনো অস্পষ্ট বা অতিব্যাপক সংজ্ঞা যেন স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

মানহানি, গুজব ও অপতথ্যের সংজ্ঞায় পরিবর্তনের প্রস্তাব

খসড়া আইনে মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন করা এবং সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলো পৃথকভাবে বিবেচনার প্রস্তাব এসেছে। একই সঙ্গে মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির বিধান প্রচলিত দণ্ডবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

গুজব ও অপতথ্যের সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট করার ওপরও মতামত দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা অস্পষ্ট থাকলে তা সাংবাদিকতা, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

মোবাইল কোর্টের বিধান না রাখার আলোচনা

সংশোধিত খসড়ায় মোবাইল কোর্টের বিধান না রাখার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি কোনো কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানকে কারণ জানানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ব্লক করা কনটেন্ট পুনরায় চালু করার আবেদন নিষ্পত্তিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং সংবাদমাধ্যম বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে লিখিত নোটিশ প্রদান ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব

সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্য কাঠামোয় গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তি ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ, উন্নয়ন সহযোগী এবং মেটার মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পরামর্শ গ্রহণের প্রস্তাব আলোচনায় আসে।

সভায় অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত খসড়া আইনটি পুনরায় পরিমার্জন করে ওয়েবসাইটে প্রকাশের বিষয়ে আলোচনা হয়। জনসাধারণের মতামত গ্রহণের মাধ্যমে আইনটিকে আরও গ্রহণযোগ্য, কার্যকর ও সময়োপযোগী করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

অতীতের অভিজ্ঞতা, নতুন আইনে প্রত্যাশা

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও পরবর্তী সাইবার নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগ নিয়ে অতীতে সাংবাদিক ও নাগরিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার এবং হয়রানির অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে নতুন আইনে সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা, বিচারিক তদারকি ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি দীর্ঘদিনের।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সাইবার অপরাধ দমন যেমন জরুরি, তেমনি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা এবং নাগরিকের মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষাও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

তবে আদালতের পূর্বানুমতি গ্রহণসহ আলোচিত বিষয়গুলো এখনো সংশোধনী আইনের খসড়া পর্যায়ের সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাব। জনমত ও অংশীজনদের সুপারিশ পর্যালোচনার পর আইনটির চূড়ান্ত রূপ নির্ধারিত হবে। ফলে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সুরক্ষায় এসব প্রস্তাব বাস্তবে কতটা কার্যকর বিধানে রূপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

সর্বশেষ - জেলার খবর

আপনার জন্য নির্বাচিত